কলারোয়া, সাতক্ষীরা:
প্রকৃতির বুক চিরে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসবে মেতে ওঠা এক জনপ্রতিনিধিকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বেশ কিছুদিন ধরে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এতে করে একদিকে যেমন আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে গ্রামীণ রাস্তাঘাট মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
অভিযান ও দণ্ড:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সত্যতা পায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এসময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী জনস্বার্থে ওই ইউপি সদস্যকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডিত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন।
জনমনে প্রতিক্রিয়া:
এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, জনপ্রতিনিধিরাই যদি আইন অমান্য করে প্রকৃতি ধ্বংস করেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য:
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, কৃষি জমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এ বার্তাটিই এই অভিযানের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।