1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন, শিক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রী মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ পিরোজপুরে নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: বছরব্যাপী নানা আয়োজনের ঘোষণা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন; নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা আত্রাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশু ধর্ষণ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ অভিযুক্ত গ্রেফতার, এলাকায় বিক্ষোভ ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র জুলাই শহীদ স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় জামায়াতের উদ্বেগ পায়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি রানী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

বড়াইগ্রামে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: নিম্নমানের খোয়া–বালু ব্যবহারে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

মোঃ নয়ন ইসলাম 
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে
 
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ২নং বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের খাকসা–বাগডোব সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করে দুই নম্বর ও চার নম্বর খোয়া এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি অনেক স্থানে পানি না দিয়েই রোড রোলার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে সড়কের স্থায়িত্ব ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাকসা গ্রামের সঙ্গে বাগডোব এলাকার যোগাযোগ সহজ করতে সম্প্রতি সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এবং অপর সাইডে খাকসা উত্তরপাড়া মেইনরোড থেকে মাঠের ফসল তোলার জন্য ১২০০ মিটার রাস্তা করা হচ্ছে।   তবে কাজের শুরু থেকেই নির্মাণের মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয় এলাকাবাসীর মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের একাংশে ভালো মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হলেও অন্য অংশে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খাকসা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, “আমরা শুরু থেকেই দেখছি রাস্তার কাজে ভালো মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেক জায়গায় দুই নম্বর ও চার নম্বর খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে রাস্তা বেশি দিন টিকবে না।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তা বানানোর সময় নিয়ম অনুযায়ী পানি ব্যবহার করার কথা। কিন্তু এখানে অনেক সময়ই পানি না দিয়েই রোড রোলার চালানো হচ্ছে। এতে রাস্তার শক্তি কমে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সেলিম মোল্লা বলেন, “সরকার রাস্তা বানানোর জন্য টাকা দিচ্ছে, কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা চাই সঠিকভাবে কাজ হোক, যেন রাস্তা দীর্ঘদিন টেকে।”
এলাকার আরেক বাসিন্দা মোঃ নসির উদ্দিন বলেন, “রাস্তার নিচে যে বালু ও খোয়া দেওয়া হচ্ছে, তা খুবই নিম্নমানের। অনেকেই বলছেন এটি চার নম্বর খোয়া। যদি এমন নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করা হয়, তাহলে কিছুদিন পরই রাস্তা ভেঙে যাবে।”
খাকসা গ্রামের বাসিন্দা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হক বাটুল বলেন, “এলাকাবাসী সবাই চায় রাস্তার কাজ ভালোভাবে হোক। কিন্তু আমরা যেটা দেখছি, তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে, তাহলে প্রকৃত অবস্থা সামনে আসবে।”
এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কিছু জায়গায় হয়তো নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে ভালো মানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করে কাজ ঠিক করে দেওয়া হবে।
ঠিকাদার বলেন, “শুরুতে কিছু জায়গায় যেটা হয়েছে, সামনে আমরা ভালো মানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করব।” তবে কবে নাগাদ সেই উন্নত মানের উপকরণ ব্যবহার করা হবে—এ বছর নাকি আগামী বছর—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ২ নম্বর বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমিন আলী-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি সড়ক নির্মাণে যদি শুরু থেকেই মানের সঙ্গে আপস করা হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি অর্থেরও অপচয় হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, খাকসা–বাগডোব সড়কটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এই রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই নিম্নমানের কাজ হলে এর প্রভাব সরাসরি এলাকাবাসীর ওপর পড়বে।
তারা আরও বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় নিয়ম অনুযায়ী মানসম্মত খোয়া, বালু ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি কাজের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই তদারকির ঘাটতি দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদাররা অনেক সময় দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য কিংবা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে থাকেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ভেঙে যায় এবং নতুন করে মেরামতের প্রয়োজন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, খাকসা–বাগডোব সড়কের ক্ষেত্রেও যেন এমনটি না ঘটে, সে জন্য এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট সড়ক প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে এলাকাবাসী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সঠিকভাবে তদন্ত হলে রাস্তার কাজের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে সড়ক নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি যেসব স্থানে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় মানসম্মত উপকরণ দিয়ে সংস্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী মনে করেন, সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে শুধু এই সড়কই নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে। তাই তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com