যশোরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার আলবিরুণী রুমির (৮৫) দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার জোহর নামাজের পর সদর উপজেলার হামিদপুর শিকদারপাড়া শাহী মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেন। এ সময় সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিউল, অ্যাডভোকেট মাহমুদ লিটু, ইউপি সদস্য শেখ আকরাম হোসেন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এর আগে দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল দিবাগত মধ্যরাতে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকালে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ‘ইন্টারনাল ব্রেন হেমারেজ’ বা মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলবিরুণী রুমি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর দীর্ঘকাল সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর জীবনেও তিনি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং হামিদপুর শিকদারপাড়া শাহী মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।