কুষ্টিয়ার কুমারখালীসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে জ্বালানি তেলের এই আকাল কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না প্রয়োজনীয় ডিজেল, যার ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষ।
সরজমিনে বিভিন্ন জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্র বা পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, শত শত কৃষক তেলের ডিব্বা হাতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রখর রোদে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ফেটে চৌচির হচ্ছে ফসলের মাঠ।
একজন ভুক্তভোগী কৃষক বলেন তিনদিন ধইরা পাম্পে ঘুরতাছি, তেল পাই না। জমিতে পানি দিতে না পারয় চারা সব শুকাইয়া যাচ্ছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- সময়মতো সেচ দিতে না পারলে পানির অভাবে বোরো ধানের চারা লালচে হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো চাষাবাদ শেষ করতে না পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থের লোকসানের মুখে পড়বে কৃষকেরা।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো উৎপাদন সম্ভব হবে না, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, ডিলার বা পাম্প মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। তারা দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং তেলের ন্যায্যমূল্য ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।