1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএনপি নেতার ‘ত্রাস’: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, নিয়োগ বাণিজ্য ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের মহোৎসব! গণভোট না মানার কারণে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর ওসিকে প্রত্যাহার ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর না খুললে জনগণই সেটা খুলে দেবে: নাহিদ ইসলাম ‘নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না’: জামায়াতে আমির যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান মাছের ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধি দল মাথা ঝুঁকিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপানের কোচ ইরানে বিপ্লবী গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করে হত্যা

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে মাংস বিক্রি, প্রতিবন্ধী সাবলুর জীবনে নতুন সূর্যোদয়

মোস্তফা কামাল
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে আত্মমর্যাদার পথে হাঁটলেন শারীরিকভাবে অক্ষম এক যুবক। তিনি উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার তালুক গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে সাবলু (৪৫)। নিজের সংগ্রাম আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আবারও জীবিকা নির্বাহের পথে ফিরেছেন তিনি। জানা যায়, সাবলু একসময় খাসি ছাগল কেটে মাংস বিক্রি করেই সংসার চালাতেন। কিন্তু হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক করে তার বাম হাত ও পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। এতে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় নেমে আসে চরম সংকট। বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে পথে পথে ভিক্ষা করতেন সাবলু। মানুষের করুণা আর সামান্য সাহায্যের উপরই নির্ভর করত তার প্রতিদিনের জীবন।  পরবর্তীতে বিষয়টি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরানের নজরে এলে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সাবলুকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। প্রথমে তাকে একটি ভ্যারাইটিস স্টোর করে দেওয়া হলেও লোকসানের কারণে সেটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য আর অবহেলার জীবন থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ় সংকল্পই বদলে দিয়েছে সাবলুর ভাগ্য। এরই মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পান সাবলু। সেই অর্থ  এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি ছোট পরিসরে মাংস বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজারহাট বাজারের ফুলখাঁর চাকলা সড়কের পাশে বসে আবারও খাসির মাংস বিক্রি শুরু করেন তিনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার অদম্য মনোবল এলাকাবাসীকে মুগ্ধ করেছে। অনেকেই তার কাছ থেকে মাংস কিনে তাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবলু বলেন,  ভিক্ষা করা ভালো নয়। মানুষ সামনে সহানুভূতি দেখালেও আড়ালে সমালোচনা করে। তাই ভিক্ষা ছেড়ে দিয়েছি। এখন মাংস বিক্রি করে সৎভাবে সংসার চালাতে চাই।
তিনি আরও জানান, শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে খাসি জবাই করতে পারেন না। তাই অন্যের মাধ্যমে জবাই করিয়ে মাংস প্রস্তুত করে বিক্রি করছেন।
সচেতনমহল মনে করছেন, যথাযথ সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতা পেলে সাবলুর মতো অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
সাবলুর এই গল্প শুধু তার ব্যক্তিগত সফলতার কাহিনি নয়, বরং সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। প্রমাণ করে সঠিক সুযোগ ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কেউ পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com