সুন্দরবনের গহীনে দস্যু দমনে বড়সড় সাফল্য দেখিয়েছে বনবিভাগ। শুক্রবার বিকেলে খুলনার কয়রা সংলগ্ন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কোবাদক স্টেশন এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তিনটি দেশীয় পাইপগান ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বনরক্ষীদের উপস্থিতিতে দস্যুরা বনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জাধীন কঞ্চির খালের ‘বাইনতলা’ নামক দুর্গম এলাকায় একদল বনদস্যু ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন সংবাদ আসে বন কর্মকর্তাদের কাছে। খবরের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত কোবাদক ও বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের বনরক্ষীদের নিয়ে একটি যৌথ টিম গঠন করা হয়।
বিকালে বনরক্ষীরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন বনের ঝোপের আড়ালে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নড়াচড়া চোখে পড়ে। বনরক্ষীরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তত ৭ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দস্যুরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র ফেলে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪টি কার্তুজ জব্দ করা হয়।
কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মোঃ আনিছুর রহমান জানান, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় এই অভিযানটি সফল হয়েছে। অভিযানের সার্বিক তথ্য ইতিমধ্যে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন:”সুন্দরবনে অপরাধী ও দস্যুদের কোনো ঠাঁই নেই। বনজ সম্পদ এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এই উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আমাদের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।”সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয় এবং জেলে-বাওয়ালীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বনবিভাগ জানিয়েছে, বনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এ ধরনের অতর্কিত অভিযান ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। দেশীয় বন্দুক: ৩টি,তাজা কার্তুজ: ৪ রাউন্ড