দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা পটুয়াখালী-তে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময় যেখানে মুগডাল ও বাদাম ছিল প্রধান ফসল, এখন সেখানে অধিক লাভের আশায় তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে তরমুজ চাষে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই ধান, মুগডাল ও বাদাম চাষ ছেড়ে এই ফসলের দিকে ঝুঁকেছেন। কম সময়ে বেশি ফলন এবং বাজারে ভালো দামের আশাই তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
তবে চলতি মৌসুমে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ব্যাপক হারে চাষ হওয়ায় বাজারে তরমুজ এর সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে দাম কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে করে লাভের বদলে অনেক কৃষক এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কৃষকরা বলছেন, “গত বছর ভালো দাম পেয়েছিলাম, তাই এ বছর বেশি জমিতে তরমুজ লাগিয়েছি। কিন্তু এখন দাম এত কম যে খরচই উঠছে না।”
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশেই স্তূপ করে রাখা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কম দামে। পাইকারি বাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সরবরাহ বেশি হওয়ায় তারা ন্যায্য দাম দিতে পারছেন না।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাহীন চাষাবাদ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবই এ অবস্থার জন্য দায়ী। তারা বলছেন, ফসল বৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং আগাম বাজার বিশ্লেষণ ছাড়া একক ফসলের উপর নির্ভরতা কৃষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কৃষকদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিকল্প বাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।