1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদমদীঘিতে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র জুলাই শহীদ স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় জামায়াতের উদ্বেগ পায়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি রানী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণ প্রজ্বলন বন্ধ করায় ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্বেগ ‎পেকুয়ায় মাদক বিক্রির আখড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের যৌথ অভিযান দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ চাই না: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতন, কাটা হলো চুল দলের হারের পর শুনলেন ‘বাবাও নেই’

পাইকগাছায় নবনির্মিত ৫তলা উপজেলা কমপ্লেক্স বিদ্যুৎ সংযোগে ব্যহত হস্তান্তর প্রক্রিয়া!

বি.সরকার
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে
পাইকগাছায় নবনির্মিত ৫তলা উপজেলা কমপ্লেক্স বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় ব্যহত হস্তান্তর প্রক্রিয়া! এ ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনটি প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের অবকাঠামোগত সকল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে নবনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ সংযোগের নির্ধারিত টাকা জমা দেওয়ার পর ও সংযোগ মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। এদিকে সরকারি অফিস ভবনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে চলছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম। এ কারণে জনসেবা ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা।
উল্লেখ্য এলাকার সাধারণ মানুষ যেন এক ভবনেই সরকারি সব সেবা পান এ লক্ষ্যেই সরকার বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)-র আওতায় এ উপজেলায় নির্মাণ হয়েছে বহুতল বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। বর্তমান ব্যবহৃত ভবনের পাশেই ৫ হাজার ১’শ স্কয়ার ফুট জায়গার উপর নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। নবনির্মিত ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৯ লক্ষ্য ২৮ হাজার ৮৩২ টাকা। নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি)। নির্মাণ কাজ করেছে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শুরু করলেও এখনো নবনির্মিত ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করতে পারেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অবকাঠামো গত সহ সকল ফিটিংস এর কাজ কয়েকমাস আগে সম্পন্ন হলেও শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে ভবনটি হস্তান্তর করা যাচ্ছে না। ভবনে মোট ৩৪ টি দাপ্তরিক কক্ষ এবং দুটি মিটিং রুম রয়েছে। গাড়ি পার্কিং সহ অন্যান্য কাজের সুবিধার্থে ৫ তলা ভবনের প্রথম ফ্লোরটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ৯ টি দাপ্তরিক এবং একটি মিটিং রুম। তৃতীয় তলায় রয়েছে ৭টি দাপ্তরিক রুম। চতুর্থ তলায় ৮ টি দাপ্তরিক এবং একটি মিটিং রুম। পঞ্চম তলায় রয়েছে ১০ টি দাপ্তরিক রুম।
১০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এ উপজেলায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। এলাকার মানুষের জন্য সরকারি সেবা প্রদান করে থাকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর। দপ্তর গুলো একই ভবনে না থাকায় প্রতিদিন শতশত মানুষ সরকারি সেবা নিতে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। শুধু জনসেবা নয়, উপজেলা পরিষদ এলাকার মধ্যে সরকারি অফিস ভবন না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে চলছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং পরিসংখ্যান অফিস সহ অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দাপ্তরিক কাজ। নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের পর সরকারি সব সেবা একখানেই পাবে এমন প্রত্যাশা ছিল এলাকার মানুষের। প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাম থেকে আসা সুবিধাভোগী মানুষেরা কোন বাড়িতে কি অফিস রয়েছে এটা জানেন না, এজন্য অফিস খুঁজে পেতে মানুষের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এক জায়গায় সকল দপ্তর থাকলে এমন ভোগান্তি হতো না। জনসাধারণের ন্যায় কর্মকর্তাদেরও সরকারি কাজ ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বলেন এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস রয়েছে। অফিস থেকে উপজেলার মিটিং সহ অন্যান্য কাজে ঘনঘন যাতায়াত করতে হয়। এতে অনেক কাজ ব্যহত হয়। এছাড়া এলাকার নারীরা সেবা নিতে এসে অফিস চিনতে না পেরে অনেক সময় ফিরে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন ভবনের সব ধরনের কাজ শেষ করা হয়েছে। ৬ মাসের ও অধিক সময় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অপেক্ষা করছি। অবকাঠামো গত এবং সব ধরনের ফিটিংস এর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য আবেদনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সজল বিশ্বাস। উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সংযোগ পেলেই নবনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকার বিজ্ঞ মহলের ধারনা, নবনির্মিত উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর হলে উপজেলা পরিষদের আওতাধীন সরকারি সকল দপ্তর একই ছাঁদের নীচে থাকবে। এলাকার মানুষ এক ভবনেই সহজেই সরকারি সকল সেবা পাবে। পাশাপাশি সরকারি সকল অফিসের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয় স্থাপন হবে এতে সেবা এবং উন্নয়ন কাজের গতি বাড়বে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com