বারবার বাঁশির তীক্ষ্ণ শব্দে সতর্ক করা হচ্ছিল। সামনে ছুটে আসছিল যমদূতরূপী ট্রেন, আর জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অসহায় মানুষ। গেটম্যান প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন তাকে থামাতে, চিৎকার করে ডেকেও ছিলেন; তবুও ফেরানো যায়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত ট্রেনের ধাক্কায় নিভে গেল এক অচেনা জীবনের প্রদীপ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী একটি লোকাল ট্রেন দ্রুতগতিতে চড়াইকোল এলাকা অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে রেললাইন পার হচ্ছিলেন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক যুবক। দায়িত্বরত গেটম্যান ট্রেন আসতে দেখে বারবার বাঁশি বাজিয়ে তাকে সরে যাওয়ার সংকেত দেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি কোনো সাড়া না দিয়ে লাইনের ওপরই অবস্থান করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দায়িত্বরত গেটম্যান মো. নূরল ইসলাম কান্নার সুরে বলেন: আমি গেট ফেলার পর দেখি লোকটা লাইন পার হচ্ছে। ট্রেন খুব কাছে চলে আসায় বারবার বাঁশি বাজিয়ে তাকে সরে যেতে বলি। এমনকি তাকে টেনে সরাতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তার আগেই ট্রেনটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। চোখের সামনে মানুষটা শেষ হয়ে গেল, আমি কিছুই করতে পারলাম না।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে তাকে এলাকায় দেখা না গেলেও মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তিনি রেলগেটের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তবে তার নাম কিংবা পরিবারের কোনো পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরুল হোসাইন জানান, “রাজবাড়ী থেকে আসা ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এখনও তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।