নওগাঁর ধামইরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পিপাসা মাহাতো (২৮) নামের এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, নিজের স্বামী সত্যেন্দ্রনাথ মাহাতোকে হত্যার চেষ্টা করেন ওই নারী।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার দক্ষিণ চকযদু তিন নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। সত্যেন্দ্রনাথ জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের হিসাববিজ্ঞান (বি,এম শাখা) বিভাগের প্রভাষক।
বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর একটার দিকে বাদী হয়ে স্ত্রী পিপাসা মাহাতো ও তাঁর শশুর খোকা মাহাতোসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযুক্তরা সকলেই উপজেলার মঙ্গলবাড়ী মুকুন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।
সত্যেন্দ্রনাথ জানান, স্ত্রী পিপাসা মাহাতো প্রায় সময় বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য বায়না ধরতো। এবং জোর করে বাপের বাড়ি যেতো। সংসারের প্রতি খেয়াল না রেখে ঘন ঘন কেন বাপের বাড়ি যেতে হবে এমন প্রশ্ন করার এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
আইনগত সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত এগারোটার দিকে একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত একটি রিকশা নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার বাড়ির সামনে এসে ডাকাডাকি করলে দরজা খুলে দিতেই অভিযুক্তদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে আমাকে আঘাত করতে থাকে।
এতেকরে মাথায় এবং কানে গুরুতর ক্ষত হয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় চিৎকার দিতে থাকলে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে ভর্তি করে নেন। এমন অবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খোকা মাহাতো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ আমার মেয়ে। হাতে একটা বিষফোঁড়াও হয়েছিল। কিন্তু জামাই, মেয়ের কোন চিকিৎসা করতো না। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াসহ সব খরচ আমাকে করতে হতো। এবং প্রায় সময় মেয়ের গায়ে হাত তুলতো।
কলেজের প্রিন্সিপাল এবং ইউএনও স্যারের কাছে অনেকবার অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে তিনবার মেয়েকে মেরেছে। খবর পেয়ে ছেলেকে নিয়ে জামাইয়ের বাড়িতে যাই। এবং কেন মারা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে আমার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে এবং ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে দরজার আঘাতে সে আহত হয়।
এবিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, দুপুরে অভিযোগের একটি কপি আমাকে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত চলছে।