1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় লস্কর ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম ও হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি কলাপাড়া হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতি রোগীদের একমাত্র ভরসা বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ নেত্রকোনায় ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক কারবারি আটক ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জেলেদের বড়শিতে ধরা পড়ল কুমির মেলান্দহে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ পড়ে মা ও ২ মেয়ের মৃত্যু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় যুবককে গণপিটুনি মসজিদের ইমামের কাছে যুবদলের দুই নেতার লাখ টাকা চাঁদা দাবি আওয়ামী ভূত এখন অন্য একটি দলের কাঁধে চেপেছে: তারেক রহমান সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপি নেতা হয়ে চাঁদাবাজি বহাল রাখতে চান

সোহরাব হোসেন
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৪২৪ বার পড়া হয়েছে

দেশে গণ অভ্যুত্থানের পর এখন একে একে গাবাঁচাতে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিতে যোগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনেকে আবার বিএনপির অনেক নেতাকে ম্যানেজ করে বিএনপি নেতা বনেও গেছেন। সারাদেশের ন্যায় এমন ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর বনানীতেও।বনানী থানা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ খাঁন এর ছেলে নাজমুল খাঁন ফারহান এখন ছাত্রদল নেতার পরিচয় বহন করছেন। আবার তাকে সম্প্রতি দেখা গেছে বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি চাঁন মিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন মিছিলে। নাজমুল খাঁন যেন লটারির টিকিট কেটেছেন। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল দুই জায়গায়তেই সুবিধা জনক জায়গা পাওয়ার চেষ্টায় আছেন, যেকোনো এক জায়গায় লটারি তো লাগবেই! এমন সুযোগে আছেন।

৫ই আগস্টের পর থেকেই নাজমুল খাঁন আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কড়াইল বস্তি এলাকায় দলবল নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন। দোকানপাট দখলের জন্য সংঘর্ষের ঘটনায় জড়াচ্ছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় কড়াইল বস্তির স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা চাঁদাবাজ জোনায়েদ মনির বাহিনী বস্তিতে কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করলে তাদের সাথে ফরিদ খাঁন থাকতো বলে এই নাজমুল সেইসব অনুষ্ঠানের ফেসবুক লাইভ করতো আর সেই লাইভ ভিডিওতে জোনায়েতদের চাচা চাচা উপাধি দিয়ে তেল মারতে দেখা যেত। পরে কাউন্সিলরের পোলাপানের সাথে মারামারির ঘটনায় জড়ানোর কারনে ও ধর্ষণের অভিযোগে ফরিদ খাঁন এবং তার পরিবারকে বস্তি থেকে বিতাড়িত করে জোনায়েদ বাহিনী।

ফরিদ খাঁনের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনও করেছিল বস্তিবাসী। যদিও এসব কাউন্সিলর নাছিরের ষড়যন্ত্র বলে দাবি ফরিদের পরিবারের। জানা যায়, ধর্ষণ মামলায় বনানী থানায় মামলা হলে গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক মাস জেল খাটেন ফরিদ খাঁন। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় জামিনে আছেন।স্থানীয়রা জানান, ফরিদ খাঁন ছিলেন জোনায়েদ বাহিনীর চাঁদাবাজির অন্যতম ঘনিষ্ঠ সদস্য। তার ছেলে নাজমুল খাঁনও তাদের হয়ে কাজ করতেন। পরে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা হওয়াতে ফরিদকে কৌশলে সরিয়ে দেয় জোনায়েদ বাহিনী। দখলে নেয় বস্তিতে ফরিদের সব কিছু।

পরবর্তীতে ফরিদ খাঁন তার সব কিছু ফেরত পেতে কখনো বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলের সাথে এখনো ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান দুলালের সাথে ভাব জমাতে চেষ্টা করে কোথাও সুবিধা করতে পারেনি। এখন গণ অভ্যুত্থানের পর ফরিদ আবার বিএনপি নেতা হতে চান এবং তার ছেলে ছাত্রদল বা স্বেচ্ছাসেবক দল। মূলত তাদের এই চেষ্টা বস্তিতে চাঁদাবাজির রাজত্ব পূণরায় ফিরে পেতে।দেখা গেছে, তারা বাপ ছেলে তাদের পুরানো ফেসবুক আইডি ডিলেট করে নতুন আইডি খুলেছেন। পুরোনো আইডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির শতশত ছবি ছিল।

নাজমুল খাঁনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তার বাবার বৈধ আয়ের উৎস কী? তিনি জানিয়েছিলেন, তার বাবা ব্যবসা করেন। কী ব্যবসা করেন? জানতে চাইলে উত্তর দিয়েছিলেন, তার বাবার বেলতলা বস্তির বাজারে শেয়ার ছিল (যেটি জোনায়েদ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো)। এছাড়া বস্তিতে দখল করে গড়ে তোলা আরো কিছু ঘর ও দোকানপাট ছিল। তবে এগুলোকে কী বৈধ ব্যবসা বলা যাবে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেননি।উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পর কড়াইল বস্তির বেলতলা অংশের দখলবাজ, চাঁদাবাজ জোনায়েদ বাহিনী পালিয়ে গেছেন। আত্মগোপনে রয়েছেন পুরো বাহিনী। এখন বিএনপির পরিচয়ে তাদের চাঁদাবাজির সংসারের দায়িত্ব নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন নাজমুল খাঁনের মতো লোকেরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com