1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আওয়ামী ভূত এখন অন্য একটি দলের কাঁধে চেপেছে: তারেক রহমান সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু সাতকানিয়ায় মুখোশধারীদের হামলায় প্রাণ গেল চা দোকানির: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। মান্দার মৈনমে রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ, বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে পিচ বগুড়ার গাবতলিতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু পিরোজপুরে গাঁজার গাছসহ মাদকসেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার দুই ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে পুকুর সংস্কারের নামে ভেকু দিয়ে মাটি বিক্রয় জন সাধারণের চলাচলে বিঘ্ন রাজবাড়ী জেলা বিএনপি এর প্রচেষ্টায় প্রবাসী লিটনের মরাদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, প্রবাসী বিএনপির শোক ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুরের দুই লঞ্চ চরে আটকা, প্রায় ৭৫০ যাত্রী উদ্ধার কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা: বাবা হারানো শোকে কাটছে ছেলের প্রথম জন্মদিন

ফুলবাড়ী সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর, বিচার এখনও অধরা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

আজ ৭ জানুয়ারি। সীমান্তে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো কিশোরী ফেলানীর হত্যার ১৪ বছর পূর্ণ হলো। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান মাত্র ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী। তার মৃতদেহ দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাটাতারে ঝুলে ছিল। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছিল। কিন্তু ১৪ বছর পেরিয়েও ফেলানীর পরিবার তার হত্যার ন্যায়বিচার পায়নি।ফেলানীর পরিবার ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় থাকত। তার বিয়ে বাংলাদেশে ঠিক হওয়ায় তাকে কাটাতার পেরিয়ে দেশে ফিরতে হয়। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে তার বাবা নূরুল ইসলাম কাটাতার পেরিয়ে এলেও ফেলানী কাটাতার টপকানোর সময় বিএসএফ-এর গুলিতে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আধাঘণ্টা ছটফট করে মৃত্যুবরণ করে সে। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তার মৃতদেহ কাটাতারে ঝুলে থাকে।ফেলানীর হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ-এর বিশেষ আদালতে ফেলানীর বাবা ও মামা সাক্ষ্য দেন। কিন্তু ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে দুইবার বিশেষ আদালত অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহযোগিতায় সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে।রিট পিটিশনের শুনানি শুরু হয় ২০১৫ সালে। এরপর করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে শুনানি বারবার পিছিয়ে যায়। ২০২০ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত শুনানি হয়নি। ফেলানীর পরিবার আজও আশায় বুক বেঁধে আছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের কোনো আভাস দেখা যায়নি।ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, “১৪ বছর হয়ে গেল, এখনও মেয়ের হত্যার বিচার পাইনি। কয়েকবার শুনানির তারিখ দিলেও সব পিছিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে আমরা বিচার পাইনি। আশা করি নতুন সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার নিশ্চিত করবে।”ফেলানীর মা জাহানারা বেগম একই রকম হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বহুবার বিচারের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের বিপক্ষে লড়তে পারেনি। বর্তমান সরকার মেয়ে হত্যার বিচার করবে বলে আশা করছি।”স্থানীয়দের মতে, ফেলানীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার হলে সীমান্তে হত্যা কমে আসবে। কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন জানান, “ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলা তালিকাভুক্ত রয়েছে। দ্রুত শুনানি হলে মামলাটির অগ্রগতি হবে। এই বিচার নিশ্চিত হলে বাংলাদেশি এবং ভারতীয় নাগরিক উভয়ের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।”ফেলানীর হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জাতিকে আহত করেছে। সীমান্তে নিরীহ মানুষের জীবন যেন আর এভাবে ঝরে না যায়, সেই দাবি এখন আরও জোরালো। ফেলানীর বিচারহীনতার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা শুধু তার পরিবারের নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করা সকল মানুষের জন্য একটি করুণ উদাহরণ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com