1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিঠাপুকুরে উপজেলা নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নন্দীগ্রামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে তিন নারী ১৭ পিস ইয়াবাসহ আটক ভাঙ্গুড়ায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত নিখোঁজের একদিন পর ইটভাটার পুকুরে ভেসে উঠেছে কিশোরীর মরদেহ স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করলেন হানিফ সংকেত মুঘল সম্রাট বাবরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তুলনা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলে কার্ডে অনিয়ম ও ভুয়া সাংবাদিকতার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে জেলেদের মানববন্ধন সাতক্ষীরায় মোজাহেরের তেলের পাম্পে তীব্র জ্বালানি সংকট, ভোগান্তিতে বাস মালিক ও যাত্রীরা

অ-প্রকৃতিস্থ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

আজ পরিবেশ দিবস। এই বৎসরের জন্য দিবসটি যেন বিষম গুরুতর, কেননা এই বৎসরের মূল ঘটনাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্রকেই কেন্দ্র করিয়া। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের আমপান, ব্রাজিল, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল, পূর্ব আফ্রিকায়, ভারতে ও পাকিস্তানে পঙ্গপালের হানা, সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী করোনাত্রাস মিলাইয়া মানুষকে পুনরায় বুঝাইবার সময় আসিয়াছে, প্রকৃতি ও প্রকৃতির সকল প্রাণী গুরুত্বপূর্ণ, ভারসাম্য নষ্ট করিলে মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হইবে, পার পাইবে না। অবশ্য এই সকল পাঠ প্রতি পরিবেশ দিবসেই দান করা হয়, মানুষ ঢুলিতে ঢুলিতে ভাবে— সেমিনার শেষ হইলে খাবারের প্যাকেট দেওয়া হইবে, তাহাতে পনির রহিয়াছে না মাংসের বড়া। এই বৎসর অবশ্য তাহার চৈতন্য অধিক জাগ্রত হইলেও হইতে পারে, কারণ প্রকৃতির উপর্যুপর চপেটাঘাতে সে সচকিত হইয়া আছে।

মানুষ কিছুতে বুঝিতে পারে না সরল কথা, এই পৃথিবীতে সে একতম নহে, অন্যতম। যে ভাইরাসের স্বাভাবিক ভাবে মানুষের দেহে আসিবারই কথা নহে, তাহার আগমনের মূল কারণ হইল, ভাইরাসটি যে জীবের দেহে বাসা বাঁধিয়া আছে, তাহার বসতি মানুষ ধ্বংস করিতেছে। হয় ধ্বংস করিবার সময় মানুষ সেই জীবের সংস্পর্শে আসিতেছে, অথবা বসতি হারাইয়া বাধ্য হইয়া সেই জীব মানুষের বসতিতে আসিয়া উঠিতেছে। আফ্রিকার জঙ্গল ধ্বংস করিবার সহিত ইবোলা ভাইরাসের প্রসার লইয়া গবেষণা চলিতেছে। ইঁদুর ও উইপোকা জাতীয় প্রাণীকে ঘাস কাটিয়া উচ্ছেদ করিবার জন্যই আজ ভারতে মানুষের স্ক্রাব টাইফাস রোগ বাড়িয়াছে। ‘কিয়াসানুর ফরেস্ট ডিজিজ’ও কর্নাটকের অরণ্যহানির সহিতই সম্পৃক্ত, ভাবা হয়। নিপা ভাইরাস এক জাতীয় বাদুড়ের দেহে থাকে। সেই বাদুড় স্বাভাবিক বাসস্থান ছাড়িয়া মানুষের বসতিতে, ফলের গাছে খাবারের সন্ধানে আসিলে, তাহাদের অর্ধভুক্ত ফল হয়তো খাইয়াছে খামারের শূকরেরা, তাহাদের সংস্পর্শে আসিয়া মানুষ সংক্রমিত হইয়াছে। বহু ভাইরাস যখন অন্য জীবের দেহ আশ্রয় করিয়া থাকে, তাহাদের প্রকোপ হয় মৃদু, কিন্তু যখন তাহারা ‘প্রজাতি উল্লঙ্ঘন’ করে, সেই প্রকোপ ভয়াবহ। মানুষ ক্রমাগত নগরপত্তন করিতে ও তৈল এবং খনিজ পদার্থের সন্ধানে জঙ্গল কাটিয়া সাফ করিতেছে। পরিবেশপ্রেমী বারণ করিলে সে ভাবিতেছে, আহা, ইহারা শশকের দুর্দশায় রোরুদ্যমান। কিন্তু যে প্রাণীরা গৃহচ্যুত হইল, তাহাদের শোধ প্রকৃতি বাস্তুতন্ত্রের নিয়মেই লইবে, ইহা মানুষের লোভসর্বস্ব চিত্তে ঢুকিতেছে না।

মানুষ ভাবে, অন্য প্রাণীরা সৃষ্ট হইয়াছে মানুষেরই স্বার্থ চরিতার্থ করিবার জন্য। গিনিপিগ জন্মিয়াছে যাহাতে মানুষ তাহাকে অশেষ কষ্ট দিয়া গবেষণা সারিয়া লয়, গরু সৃষ্ট হইয়াছে যাহাতে মানুষ গো-সন্তানের প্রাপ্য লুণ্ঠন করিতে পারে। বাঁচিবার জন্য যাহা প্রয়োজন তাহার অধিক পাইতে পাইতে ভোগের স্পৃহা বাড়িয়াছে, বাড়িয়াছে অন্যকে অত্যাচার করিবার পুলক। এই ধর্ষকামেই মানুষ প্রাণীকে আনারসের মধ্যে বিস্ফোরক ভরিয়া খাইতে দিতেছে, সরল বিশ্বাসে হস্তী তাহা গ্রহণ করিয়া মৃত্যুবরণ করিতেছে। সকল অর্থেই মানুষ আজ আর ‘প্রকৃতিস্থ’ নাই। কোনও দিন কি তাহার স্থূল মস্তিষ্কে ঢুকিবে যে কেবল টিকিয়া থাকিবার তাগিদেই মানুষকে আত্মসংবরণ করিতে হইবে, পরিবেশের যত্ন লইতে হইবে?

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com