ঠাকুগাঁওয়ে রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- দাসপাড়া গ্রামের সাগর দাসের স্ত্রী দীপ্তি দাস (৪০), উমাকান্ত দাসের ছেলে পলক দাস (১২) ও সাগর দাসের মেয়ে পূজা (১১)। আহতরা হলেন- নিহত দিপ্তি রাণী দাসের স্বামী সাগর দাস (৫০) ও স্থানীয় বাসিন্দা নিখিল (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দাসপাড়া এলাকায় একটি হাসকিং মিলে ধান সিদ্ধ চলছিল। এ সময় অতিরিক্ত তাপে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় মিলের রাস্তার পাশে গিয়ে পড়ে বয়লারটি। এতে আগে থেকে সেখানে বসে থাকা দীপ্তি দাস, পলক ও পূজা বয়লারের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় বাসিন্দা খয়রুল ইসলাম বলেন, হাসকিং মিলটির ছাই আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই স্থানীয়রা সেটি বন্ধ করার জন্য সাইদুলকে একাধিকবার বলেছে। কিন্তু সে ক্ষমতার জোড়ে সেটি চালু রেখেছে। আমরা হাসকিং মিলের মালিক সাইদুলের বিচার দাবি করছি।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। হাসকিং মিলের ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ত্রুটি রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিথুন সরকার বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মামলা দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসকিং মিলের মালিক সাইদুলকে আমার আটকের চেষ্টা করছি।