রাজধানী বাড্ডার সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
এদিন শুনানিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন শুরু করলে আদালত জানতে চান শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল করা হয়েছিল কি-না। এ সময় তিনপক্ষের (রাষ্ট্র, রিটকারী ও হাসপাতালের) আইনজীবী সমস্বরে বলেন ‘না’। তখন আদালত বলেন, মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য সুরতহাল রিপোর্ট করা প্রয়োজন।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন লোক দেখানো (আইওয়াশ) ও হাস্যকর ছাড়া কিছুই না বলে মন্তব্য করে আদালত বলেন, কোনো চিকিৎসকই রোগীর মৃত্যু চায় না, তবে এখানে আয়ানের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা দেখা যাচ্ছে। দায় এড়ানোর জন্যই তারা (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) এ ধরনের রিপোর্ট দাখিল করেছে।শিশু আয়ানের অ্যাজমা সমস্যা থাকার কথা জানার পরও কেন চিকিৎসকরা অপারেশনের জন্য এতো তাড়াহুড়া করলেন? খতনা করার সময় যে পরিমাণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে, হার্টের বাইপাসেও এতো ওষুধ লাগে না বলে মন্তব্য করেন আদালত।
এখানে চিকিৎসকদের একটা ডিসিপ্লিনে চলা উচিত উল্লেখ করে ‘মেডিকেল নেগলিজেন্স’ বিষয়ে একটি টিম বা বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন হাইকোর্ট।এ পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসা প্রতিবেদন এফিডেভিড আকারে জমা না দেওয়ায় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করানোর জন্য আনা হয় আয়ানকে। সেদিন সকাল ৯টায় খতনা করার জন্য তাকে অজ্ঞান করা হয়। পুরোপুরি অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে সুন্নতে খতনা করান চিকিৎসক। বেলা ১১টায়ও জ্ঞান না ফিরলে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এনে লাইফসাপোর্টে রাখা হয় আয়ানকে। টানা সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।