1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: ডা. জাহেদ তদন্তে মিলল না জামায়াত নেতার দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগই জোরালো ডুবন্ত পণ্যবাহী কার্গোতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের সন্দেহ নোবিপ্রবিতে শহীদুল্লা কায়সারের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক সেমিনার মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের জামিন জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন বাজেটে মোট ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকা, কমছে সরকারি ব্যয়: সংসদে অর্থমন্ত্রী কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, আর এক খেলার পেছনে গোটা পৃথিবীর উন্মাদনা: আহমাদুল্লাহ

জমি দখলের জের ধরে ব্যবসায়ীকে প্রতিষ্ঠান থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ মে, ২০২৫
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের নেছারাবাদে জমি দখলের জের ধরে মুকুল কুমার সাধক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে তিন দফায় মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আনিসুজ্জামানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক কাজী আনিসুজ্জামান এর বাহিনী তার দোকানে গিয়ে মুকুলের উপর এ হামলা চালিয়েছে। ইতিমধ্যে আজ মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলে এ বিষয়টি নিয়ে ৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভুক্তভোগী মুকুল কুমার সাধক মিডিয়ার সামনে বিএনপি নেতা আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে ইন্টারভিউ ও সংবাদ প্রকাশের যে ধরে তার পালিত বাহিনী দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ বিয়ে ভুক্তভোগী মুকুল কুমার সাধক মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলে নেছারাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ব্যাপী আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী মুকুল কুমার সাধক তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসা এমন সময় উপজেলার বিএনপি নেতা মো. কাজী আনিসুজ্জামানের দুইজন অনুসারী অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করছে। এক পর্যায়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে! তুই সাংবাদিকদের ইন্টারভিউ দিয়েছো? সাংবাদিক কেডা? নাম বল? তোর জিব্বা কেটে ফেলবো! (গালাগালি)। ভাইরাল ভিডিওতে আরো দেখা যায়, অনুসারীরা বলছে দোকান থেকে বের করে তোকে একেবারে তোকে মেরে ফেলবো! এ কথা বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেয়। অভিযোগে মুকুল সাধক বলেন, তিনি পেশায় একজন দর্জি ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রেতা। উপজেলার হাসপাতাল সড়কের চিড়ার মিল এলাকায় জমি কিনে বসবাস করেন। তার প্রতিবেশী প্রদীপ কুমার দেবনাথ নামে এক ব্যক্তির সাথে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির নেতা মো. কাজী আনিসুজ্জামান প্রদীপের দেবনাথের কাছ থেকে পার্শ্ববর্তী শরিকের একটি জমির বায়না করে নানা অযুহাতে আমার জমি তিনি দখল নিতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি আমাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে পালিত বাহিনী দ্বারা চাপ দেন। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলেছিলাম। এ কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে কাজী আনিসুজ্জামান সোমবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় আমার দোকানে এসে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এর কিছুক্ষন পর অজ্ঞাত তার কিছু বাহিনী এসে আমাকে দোকান থেকে বের করে মারধর করেন। এভাবে মোট তিনবারে আমাকে মারধর করা হয়েছে। পূর্বেও একবার থানায় অভিযোগ দিয়েছি পুনরায় গতকালও একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমার সাথে যে অন্যায় হয়েছে তার আমি উপযুক্ত বিচার চাই। ভুক্তভোগী মুকুল কুমার সাধক আরো বলেন, আনিসুজ্জামান এভাবে চাপ দিয়ে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. কাজী আনিসুজ্জামান বলেন, মুকুল কুমার সাধক প্রদীপ দেবনাথের জমি দখল করে খাচ্ছিল। আমি ওই জমি ক্রয়ের জন্য বায়না করেছি। তাই তাকে ধরে জিজ্ঞেস করেছি মাত্র। রাজনৈতিক ভাবে আমাকে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কাজী কামাল হোসেন বলেন, এরকম একটি কথা শুনেছি। তবে যারা জুলুম, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মানুষের উপর নির্যাতন করে তারা দলের লোক হতে পারেনা। তারা যদি দলের লোক হয়েও থাকে তাহলে কোন ব্যক্তির দায় দল নেবেনা। এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ মো: আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। তবে ভুক্তভোগী মুকুল কুমার সাধকের সাথে আমাদের দলের কোন নেতাকর্মী কোন অসদাচরণ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. বনি আমিন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ৫ আগষ্টের পর থেকে পৌর বিএনপি নেতা আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে দখলবাজি, বাজারের ব্যবসায়ী থেকে চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ আছে। এ নিয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির একটি অংশের নেতাদের সাথে কাজী আনিসুজ্জামানের মত বিরোধ রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com