যশোরের চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী গুড়মেলার দ্বিতীয় দিন ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দ্বিতীয় দিনের মেলার বিশেষ আকর্ষন ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পচিালক “শাইখ সিরাজ”।
তার উপস্থিতি মেলাকে আরও প্রানবন্ত করেছেন বলে মনেকরছেন কর্তৃপক্ষ।তিন দিন ব্যাপী চলা যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছাতে গুড় মেলার দ্বিতীয় দিন ছিল মঙ্গলবার। এ দিন খুব সকাল থেকেই বাহারি সব গুড়, পাটালি ও খেঁজুরের রস নিয়ে হাজির হতে থাকেন গাছিরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। দ্বিতীয় দিনের মেলাকে আরও প্রানবন্ত করে তুলেছেন বিশিষ্ঠ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব চ্যানেল আইয়ের পরিচালক শাইখ সিরাজ। তিনি দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলা চত্ত¡রে অনুষ্ঠিত গুড় মেলায় উপস্থিত হন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা তাকে স্বাগত জানান।
দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়। শাইক সিরাজ ব্যতিক্রম এই মেলা সম্পর্কে নির্বাহী অফিসারের কাছে জানতে চান। এ সময় নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা বলেন, আমরা সকলেই অবগত যশোর খেঁজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত। এই ভাবনা হতে সাবেক নির্বাহী অফিসার এই মেলার আয়োজন করেন। প্রথম বছরে মোটামুটি সাড়া ফেলে গুড়ের মেলা। আমি চৌগাছায় যোগদানের পর দ্বিতীয় বারের মত এই মেলা করার প্রস্তুতি গ্রহন করি। তিনদিন ব্যাপী চলা মেলার প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। গাছিরা গুড় নিয়ে আসছেন, বিক্রি হচ্ছে আশানুরুপ। এ ছাড়া সব বয়সের মানুষের সরব উপস্থিতি মেলাকে মিলন মেলায় পরিনত করেছে। তবে খেঁজুর গাছের সংখ্য আশংকাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে আমরা খেঁজুর গাছ রোপন, তা সংরক্ষন সর্বপরি গাছিদের প্রশিক্ষন ও যথাযত ভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ সময় নির্বাহী অফিসার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে শাইক সিরাজকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। পরে শাইক সিরাজ গুড় মেলা ঘুরে দেখেন ও গাছিদের সাথে কথা বলেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. এম মোস্তানিছুর রহমান, নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুঞ্জন বিশ্বাস, পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনেরবিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। এ দিকে মেলায় গুড় নিয়ে আসা উপজেলার স্বর্পরাজপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম, স্বরুপদাহ গ্রামের আব্দুল আজিজ, হয়াতপুর গ্রামের আব্দুল গাজি, শিশুতলা গ্রামের আব্দুল কুদ্দস, সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের বলেন, গুড় মেলাতে এসে বেশ ভাল লাগছে। বিক্রিও হচ্ছে আশানুরুপ। তবে বোরো ধানরোপনের সময় চলছে তাই এখানে বসে থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।