1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পারস্য উপসাগর থেকে ভেসে আসবে আমেরিকান শক্তির হাড় গুঁড়ো হওয়ার শব্দ: ইরানের জেনারেল ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রতিবন্ধী নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি পিতার, বুকে জড়িয়ে ঘরে ফিরছেন মা দেবীগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলা, জড়িতদের খুঁজতে পুলিশের তৎপরতা মাদারীপুরে,মাছ-মাংস ও সবজির বাজার উর্ধমূখী,ক্রেতাদের নাভিশ্বাস গভীর রাতে আগুনে ছাই ৫ দোকান—নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীরা! সলঙ্গায় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা এক যুবকের অনুপ্রেরণার গল্প মারা গেছেন সাবেক উপমন্ত্রী ​কাঁঠালিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ আহত, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ

ইলিশে মুখর পাথরঘাটা, লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক কেজির মাছ

মোঃ শাহজালাল, বরগুনাঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে
টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মাত্র দ্বিতীয় দিনেই সাগরের জেলেদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ পেয়ে ফিরছেন তারা। সেই মাছেই এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।
শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাটজুড়ে ছিল ইলিশ আর নানা সামুদ্রিক মাছের সরব উপস্থিতি, সেই সঙ্গে জেলে, শ্রমিক, আড়তদারদের ব্যস্ততা আর বাজারের গরম বাতাস।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে দ্বিতীয় দিনে ২০ হাজার ৮১৭ কেজি মাছ, যার মধ্যে ৯ হাজার ৩০৫ কেজিই ইলিশ। বাকি ১১ হাজার ৫১২ কেজি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ। মাছের ঢল দেখেই বোঝা যায়, এ বছর বঙ্গোপসাগরের মাছের ভাণ্ডার আবারও সমৃদ্ধ হয়েছে।
ইলিশের বাজারমূল্য এবার যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মনে ১ লাখ টাকায়, ৯০০ গ্রামের ইলিশ ৮৯ থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ৬০ থেকে ৬৪ হাজার টাকা, আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ হাজার টাকায়। এত বেশি দামে ইলিশ বিক্রির চিত্র বহু বছরের পুরানো।
বড় সাইজের ইলিশ থাকায় আড়তগুলোতে ক্রেতা ও পাইকারদের আগ্রহ তুঙ্গে। কিন্তু জেলেদের মুখে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। সমুদ্রে মাছ পাওয়া গেলেও বেড়েছে খরচ। বরফ, ডিজেল এবং শ্রমিক সংকট জেলেদের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, লাভ তো হচ্ছে না, খরচ মেটানোই দায় হয়ে পড়ছে। বরফের সংকটে মাছের গুণগত মান ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
অবরোধ শেষে মাছের সরবরাহ বেড়েছে, তবে মাছকে ঘাট থেকে বাজার পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দিতে পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক মাছ। এতে বাজারে দাম পড়ে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলেরা।
পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার  জানান, এদিনের মাছের পরিমাণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সাগরে মাছের প্রাচুর্য ফিরে এসেছে। তবে এখন জরুরি হয়ে উঠেছে উপযুক্ত সংরক্ষণ, দ্রুত বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তা না হলে উৎপাদিত মাছের একটি বড় অংশই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহসীন  জানিয়েছেন, চলতি বছর ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ে সফলভাবে মৎস্য সংরক্ষণ অভিযানে নিষেধাজ্ঞা পালন করা হয়েছে। তারই ফলাফল এখন দৃশ্যমান সাগরে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে, বিশেষ করে ইলিশ।
তবে এই সফলতা টিকিয়ে রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। জেলেদের জন্য সহজ শর্তে বরফ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ভোক্তার জন্য সুলভ দামে ইলিশের বাজার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বঙ্গোপসাগরে এখন চলছে ইলিশের মৌসুম। এই রূপালি সোনার প্রাচুর্যে খুশি জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে বরফ, জ্বালানি সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এই সোনা যেন শেষ পর্যন্ত শুধুই কিছু হাতে গোনা ব্যবসায়ীর ঘরে আটকে না পড়ে এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সাধারণ মানুষের।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com