1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমোহনে দুই ব্যবসায়ীর উপর হামলা ও টাকা ছিনতাইর অভিযোগ টেকনাফে জেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে হারিয়ে যাওয়া নদীগুলো খুঁজে বের করতে হবে: জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী ফরিদপুরে মিথ্যা অস্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেলেন ইউপি সদস্য ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি। বাগাতিপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের ওপরে সশস্ত্র হামলা পিরোজপুরে অসহায় পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০’ কর্মসূচি: দৌলতখানে মাসিক স্বাস্থ্য ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সাথে সাজেদা ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি কর্মশালা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় মরতে বসেছে বলেশ্বর নদী, পানির সংকটে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বন্ধের আশঙ্কা বাঁশখালী শীলকূপ ইউনিয়নে জামায়াতের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত!

কৃষি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের তৈরি, সংখ্যালঘুর জমি দখলের অভিযোগ

মোঃ বুখারী মল্লিক 
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৪৬১ বার পড়া হয়েছে
কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’- এমন সরকারি নীতিমালা থাকলেও ফসলি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে পুকুরে। এক শ্রেণির অসাধু পুকুর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মহলকে নিয়ন্ত্রণ করে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছেন । ৪ বছর আগে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য একটি ঘের তৈরিতে এক সংখ্যালঘুর জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামে ৬ একর এলাকা জুড়ে কৃষি জমিতে স্ক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খনন করছেন গ্রামের একজন শিল্পপতি তানজিমুর রহমান তুহিন। ওই জমিতে পুকুর খনন করে সেই মাটি পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার আল-আলি অটো ব্রিক্স ইটভাটার মালিক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এমন খবর শুনে ১৫ই জানুয়ারি রবিবার  সকাল ১০ঘটিকায় টায় সরজমিনে দেখা যায়, ২ ফসলি আবাদি জমিতে তিনদিন যাবৎ রাতে স্ক্যাভেটর দিয়ে মাটি খনন চলছে। সরকারের অনুমিত ছাড়াই  নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কৃষি জমিতে  মাছের ঘের করতেই এই মাটি খননের কাজ।
অবারিত সবুজ হলুদের মাঠে  ইরি ব্লক এবং সরিষা খেত, যেখানে দৈনন্দিন কাজ করে আসছে এলাকার কৃষক। ক্ষেতে যেতে হলে একটি খাল পার হতে হয় সকলের, সরকারি খালকে বুজানো হয়েছে মাটি দিয়ে,  বড় বড় ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি আনা নেওয়ার জন্য ইটের সলিং এর একমাত্র সড়কও হয়েছে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু সবাই নির্বিকার কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না।
বিদ্যাধার গ্রামে একজনই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা দয়াল চন্দ্র বিশ্বাস কালবেলাকে বলেন, তাজমিনুর রহমান তুহিন আমার পাশের বাড়ির মানুষ, আমার একমাত্র সম্বল কৃষি জমি চাষ করে খেতাম সেটাও আমাকে ভয় দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে তার ঘেরে মধ্যে নিয়ে গিয়েছে। প্রথম বছর আমাকে কিছু ধান দেয় ফসল দেয়, এই দুই বছর আমাকে কিছুই দেয় না চাইতে গেলে ভয় ভীতি দেখায়। আমি একা এই গ্রামে হিন্দু মানুষ আমাত কোন লোকজন নাই তাই আমি ভয় তে আর কিছু বলি না।
বিদ্যাধর গ্রামের বাসিন্দা মীর সাহেব আলি কালবেলাকে বলেন, বলেন তানজিমুর রহমান তুহিনের অনেক ক্ষমতা অনেক টাকা, কেউ তার বিরুদ্ধে ভয়ে কথা বলে না, আমরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত  গ্রামের ফসলি জমি সে জোরজবোরদস্তি করে কিনছে দখল দিচ্ছে কিছু বললে তার মেম্বার আছে, লোক আছে। সে ইচ্ছা মত বেশি অংকের টাকা দিয়ে জমি কিনে এবং দখল দিয়ে কৃষি জমিতে বে আইনি ভাবে পুকুর কাটছে।
তাজমিনুর রহমান তুহিন, আলফাডাঙ্গার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধার গ্রামের বাসিন্দা ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত ছিলো, এলাকায় মাতুব্বরি করতেন জানা যায় এখনো তার মদদে গ্রামে অনেক কিছু হয়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই তুহিনেরও আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বারাষিয়া নামে একটি নিজেস্ব এনজিও রয়েছে তার। পরবর্তীতে এনজিওর টাকা থেকেই গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকায় তার দুইটা সোয়েটার ফ্যাক্টরি আছে এছাড়াও তুহিন আলফাডাঙ্গাতে দুটি প্রেসক্লাবের একটিতে আইন সম্পাদক হিসাবে আছেন। আওয়ামিলীগের রাজনীতিবিদদের সাথে সক্ষতা এবং  সাংবাদিক পরিচয়ে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে বিদ্যাধর গ্রামের বিলে ব্যক্তি মালিকানা এবং ভিপি খাস ফসলি জমি বৈধ অবৈধ ভাবে ক্রয় করে  কৃষি জমিতে গড়ে তুলেছেন বড় বড় ৭ টি মাছের ঘের, যার প্রত্যেকটি ৩/৪ একরের মত। এলাকায় নিজেস্ব একটি বাহিনী থাকায় জোর পূর্বক হলেও গ্রামের জমি নিজের করে নিয়েছেন তানজিমুর রহমান তুহিন। প্রাণনাশের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।
তানজিমুর রহমান তুহিন কালবেলাকে ফোনে জানান,  মাছের ঘের তার, গতবছর ডিসি থেজে অনুমতি আনেন, এবছর আনেন নি। মাটি সহস্রাইলের একজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে, তারাই ঘের কেটে দিচ্ছেন। এসময় তুহিন বিনয়ের সাথে প্রলোভন দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে,  যাতে নিউজ না করা হয়। সংখ্যালঘুর জমি দখল প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে তুহিন বলেন, দয়াল বিশ্বাসকে কিছু টাকা দিয়েছি ব্যস্ততার জন্য দিতে পারিনাই তবে পরিশোধ করে দিবো।
আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বুলবুল কালবেলাকে বলেন, স্পষ্টভাবে নিষেধ আছে কোন ভাবেই আবাদি জমি, ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের করা যাবে না আমি ইউ এনওর কাছে জানবো। সংখ্যালঘু দয়াল চন্দ্র বিশ্বাসের জমি তানজিমুর রহমান তুহিন অন্যায় ভাবে দখল করে নিয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, পার্মিশন ব্যতিরেকে কৃষি জমি কাটা যাবে না, শ্রেণিপরিবর্তন করা যাবে না। এটা ডিসি মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে করতে হবে, আমরা যাচাই বাছাই করে এ বিষয়টি দেখবো। আপনারা তথ্য দিলে আমি ধরে নিয়ে আসবো। সংখ্যালঘু দয়াল চন্দ্র বিশ্বাসের জমি জোরপূর্বক দখল ইস্যুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, সেটা সে আইনগত প্রতিকারের জন্য মামলা করতে পারবে।
এ বিষয়ে  ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কালবেলাকে জানান, আমার সাথে কেউ আলোচনা কিরেনি, অনুমতি নেইনি। কৃষি জমির আকার পরিবর্তন করা যাবে না, মাটি কাটার কোন সুযোগই নেই, আমাদের নলেজে আসলে আমরা বন্ধ করে দিবো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ আর এভাবে দিনের পর দিন কৃষি জমি নষ্ট  হলে কৃষি জমির পরিমাণ যেমন কমবে তেমনি  খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিবে, কৃষক না খেয়ে মরবে। কৃষক বাচলে দেশ বাচবে তাই সবার একটি প্রত্যশা শুধু আইন করেই না, আইনের সঠিক প্রয়োগে  বন্ধ করতে হবে কৃষি জমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com