1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি: জামায়াতের ভাইরাল এমপি নজরুল ককরোচরা দিল্লি হাইকোর্টকেও বিপদে ফেলল সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ককরোচ জনতা পার্টির এবং কৃষকদের আন্দোলনের ধাক্কায় চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি সরকার কলকাতায় মমতার ‘শহীদ দিবস’ মঞ্চে ভাঙচুর, বিভক্ত কংগ্রেসের আলাদাভাবে পালনের উদ্যোগ জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিওটি আসল : রিউমর স্ক্যানার স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক বিশ্বকাপ জিতেও মেসির জন্য কাঁদল কুবারসির মন

গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতির সরকার

Desk report
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে রায় দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। তবে, এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার।

রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেছে, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সংক্রান্ত যে আইন বিদ্যমান রয়েছে, হাইকোর্টের দেওয়া রায় সেই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে মে মাসে উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির স্বার্থে ১৯৭৬ সালে জারি করা সরকারি আদেশ কার্যকর করে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

তবে, এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে টিভিকে সরকার বলেছে, গরু জবাই করার ওপর সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্ট আইনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, আদালতের নির্দেশনা প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে থালাপতির সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর পরিপন্থি। ওই আইনে বলা রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী যেসব গরু কোনও কাজ করতে বা প্রজননে অক্ষম, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে শুধু সেইসব গরু বা বাছুর জবাই করা যায়।

এছাড়া, আরও বেশ কয়েকটি আইনের উল্লেখ করে শীর্ষ আদালতে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিযোগ, গরু জবাইয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের আদেশকে কেন্দ্র করে। বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণ ওই আদেশে বলেন, পশু জবাই শুধু অনুমোদিত কসাইখানাতেই করা যাবে।

একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের ইসলামের পবিত্র ঈদুল আজহাসহ অন্য যে কোনো দিন গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত রাজ্যজুড়ে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারিরও আদেশ দেন। তবে তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, এ নির্দেশনার কারণে রায়ে আইনি অসংগতি তৈরি হয়েছে।

তামিলনাড়ুর কট্টরপন্থি ও হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ইন্দু মাক্কাল কাচ্চির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আবেদনে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে। ওই অনুচ্ছেদে গরু, বাছুর এবং দুধ উৎপাদন ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশু জবাই রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, তামিলনাড়ু প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ বা প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত বলে কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন পাওয়া গরু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। আদালতের মতে, এ ধরনের প্রত্যয়ন ছাড়া গরু জবাই করা যাবে না।

রায়ে হাইকোর্ট একটি সরকারি আদেশেরও উল্লেখ করেন, যেখানে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতি সুরক্ষার স্বার্থে গরু জবাই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আগের কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, কোরবানি ঈদে গরু কোরবানি ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক মুসলমান কোরবানি ঈদে গরু কোরবানি করেন না এবং ধর্মীয় বিধান পালনের জন্য গরু কোরবানি একমাত্র বা বাধ্যতামূলক উপায়ও নয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com