1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

চাকরি স্থায়ীকরণ না হলে আত্মহত্যার হুমকি

কবির আহাম্মেদ পাভেল
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে

গত ১৫ জানুয়ারি থেকে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) পিচরেট মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে করে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বাড়ির ভেতরে থাকা মিটার না দেখেই নেয়া হচ্ছে ইউনিট রিডিং। আর গ্রাহকদের কাছ থেকে মনগড়া বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা। এমন অবস্থায় দ্রুত বিল বিতরণকারীদের দাবি মেনে নেয়ার অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি)  সকাল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার নেসকো কার্যালয়ের সামনে ৫ উপজেলা থেকে আসা পিচরেট মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারীরা এই কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এতে চাকরি স্থায়ীকরণ না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেন তারা। ওই সময় গ্রাহকরা ভুতুড়ে বিলে নিয়ে নেসকো কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করেন।

পিচরেট মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারী ইউসুফ আলী (৭০) বলেন, প্রায় ২০ বছরের বেশি থেকে আমি প্রতিটা বাড়িতে গিয়ে বিল বিতরণ করে আসছি।  নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এর আগে চাকরি স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু বয়স শেষ হয়ে গেলেও চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। চাকরি স্থায়ীকরণ না হলে আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে । আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ থাকবে না।

পিচরেট মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারীরা জানান,  দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অস্থায়ী (পিচরেট) ভিত্তিতে মিটার পাঠক ও বিল বিতরণকারী হিসেবে তারা কর্মরত আছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। ফলে রাজশাহী ও রংপুর এই দুই বিভাগের ৬শ’ জনের ঊর্ধ্বে পিচরেট কর্মচারী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বর্তমানে চরম হতাশার মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই অবিলম্বে তারা তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান। না হলে আগামীতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।

জেলা নেসকোর পিচরেট ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালী শঙ্কর রায় বলেন, প্রি-প্রেইড সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এই সিস্টেম পুরোপুরি চালু হলে আমরা চাকরীচ্যুত হবো। তাই আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে। নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এর আগে চাকরি স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আজও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। আমরা এমডির এই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এসময় বক্তব্য রাখেন, লালমনিরহাট জেলা নেসকোর পিচরেট ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালী শঙ্কর রায়, নেসকো অফিসের সভাপতি বাবু জগন্নাথ রায়, পাটগ্রাম নেসকো অফিসের পিচরেট ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বাবু, কালীগঞ্জ নেসকো অফিসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ঢালীসহ ৫ উপজেলার পিচরেট মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারীরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com