নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দুই শিশু নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল বাশার ও কনস্টেবল মো. আব্দুর রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন।
পুলিশের অভিযোগ, পরে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা এসআই মো. আবুল বাশারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আব্দুর রাকিব পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। হামলায় আহত এসআই মো. আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি জানান, নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় শনিবার রাতে গুরুদাসপুর থানার চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারভুক্ত ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



