বড়াইগ্রামে স্থানীয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বহিরাগতকে কাজী নিয়োগের অভিযোগ।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ৬ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের পাশ কাটিয়ে পাবনা জেলার এক বাসিন্দাকে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির সভা ছাড়াই বহিরাগত হাবিবুল্লাহ বেলালীকে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি গোপালপুর ইউনিয়নে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী শামসুল ইসলাম ২০২১ সালের ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ওই ইউনিয়নে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে হাবিবুল্লাহ বেলালীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি উপজেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব, সাব-রেজিস্ট্রার, তৎকালীন সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সিল জাল করার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে তথ্য জালিয়াতি করে পাবনার বাসিন্দা হয়েও নিজেকে গোপালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে উপস্থাপন করে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ বেলালীর প্রকৃত বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে বলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে কথিত নিয়োগ বাতিলের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাটোর জেলা রেজিস্ট্রার ও নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করে গোপালপুর ইউনিয়নে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব নির্দেশনার পরও হাবিবুল্লাহ বেলালী প্রভাব খাটিয়ে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেও তারা কার্যকর প্রতিকার পাননি।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বিবাহ ও তালাকের নথি সংরক্ষণ, দেনমোহর সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন এবং নথি গায়েব করে দেওয়ার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আদালতে মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে। এছাড়া বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বৈবাহিক অনিয়মের সঙ্গেও একটি চক্র জড়িত বলে তাদের অভিযোগ।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাজারে ছাপানো বালাম বই ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গোপালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ বেলালীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
সাইম খান সাজিম



