1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কানাডার দাবানল নিয়ে ক্ষুব্ধ, নতুনভাবে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ের উদ্বোধন নওগাঁর আত্রাইয়ে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ: কনের বাবার জরিমানা ও মুচলেকা কপোতাক্ষের তীরে মৃত্যুর ফাঁদ: কয়রায় ছাদ ধসে পড়ল কলেজের ভবনের, অলৌকিকভাবে রক্ষা ২৫০ শিক্ষার্থীর ঝালকাঠির রাজাপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি চিরিরবন্দরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু জনবান্ধব প্রশাসন, অপরাধ দমন, দ্রুত জনসেবা ও উন্নয়নে গৌরনদীবাসীর আস্থার নাম ইউএনও মো. ইব্রাহীম রাজশাহীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আমাদের দায়িত্ব” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত রাজশাহীর বাগমারা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদানের পর টানা ১০০ দিনে

বগুড়ার শিল্পপতি দেলওয়ারা খুনের মামলায় ফরেনসিক বিভাগে অভিযুক্তদের দৌড়ঝাঁপ

ফাহিম মাহাদী
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার নারী শিল্পপতি দেলওয়ারা বেগমকে খুনের অভিযোগে অবশেষে ১০ মাস পর বুধবার কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। দেলওয়ারা বেগমের (৭০) গত বছরের ৩ মে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার মৃত সেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী। দেলওয়ারা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন,তার মেয়ে,পাড়া প্রতিবেশীদের লাশ না দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে দাফন করে।

এঘটনায় দেলওয়ারা বেগমের মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানম বাদী হয়ে গত বছরের ৮ জুলাই বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নামে মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন সস্পত্তি আত্মসাৎ করতে দেলওয়ারা বেগমকে নাদিরা সুলতানা তার বাসায় আটকে রাখে অপর মেয়ে ও জামাইদের সহযোগিতায়। সেখানে গত ৩ মে দিবাগত রাতে দেলওয়ারা বেগমকে শ্বাসরোধ অথবা বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যার পর পরদিন গোপনে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়। মামলায় দেলওয়ারা বেগমের চার মেয়ে, জামাই ও নাতিকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিবিআই বগুড়াকে নির্দেশ দেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকে দেলওয়ারা বেগমের জামাই বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতা ফেরদৌস আলম ফটু ও জামায়াত নেতা মোফাজ্জল হোসেন রঞ্জু ওরফে ধলা মিয়াসহ অন্যান্যরা মিলে লাশ উত্তোলন ঠেকাতে আদালতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ কয়েক মাস পরে আদালত লাশ উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশে গত বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শহরের নামাজগড় গোরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে দেলওয়ারা বেগমের লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই ফরেনসিক বিভাগে অবস্থান নেয় ফেরদৌস আলম ফটু ও জামায়াত নেতা মোফাজ্জল হোসেন রঞ্জু ওরফে ধলা মিয়া গং।
সূত্র মতে, দেলওয়ারা বেগমের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এমন রিপোর্ট নেওয়ার জন্য চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ধরনা দিচ্ছে। যে কোনো মূল্যে তারা স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদ চায়। অভিযুক্তরা যদি খুনের সাথে জড়িতই না থাকে তাহলে দেলওয়ারা বেগমের স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদের জন্য কেন তদবিরে নেমেছে এই প্রশ্নই এখন সবার মাঝে।
এদিকে মামলার বাদি আকিলা সরিফা সুলতানা খানম জানান, কাটনারপাড়ায় এনায়েত আলী খান লেন এলাকার ১ ও ২ নম্বর আসামীর বসতবাড়িতে গত বছরের ৩ মে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে তাকে বাড়িতে আটকে রেখে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, আসামীগণ পরষ্পর যোগসাজসে দেলওয়ারা বেগমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ১নং আসামী ও তার স্ত্রী ২নং আসামী পরষ্পর অন্যান্য আসামীগণের সাথে যোগসাজস করে দেলওয়ারা বেগমকে জিম্মি করে ১ ও ২ আসামির বাড়িতে আটক করে রেখেছিল। এমতাবস্থায় আসামিগণ পরষ্পর সম্মিলিতভাবে দেলওয়ারা বেগমের নিকট হতে তার সকল জমি-জমা ও সম্পদ লিখে নিতে চাইলে তাতে অস্বীকার করেন এবং জানান যে, তার মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানমের সাথে সাক্ষাত করবেন। এতে আসামীগণ অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং ঘটনার দিন সকল আসামীগণ শ্বাসরোধ করে অথবা বিষক্রিয়া ঘটিয়ে দেলোওয়ারা বেগমকে হত্যা করেছে। এরপর আসামীরা গোপনে ও কাউকে কিছু না জানিয়ে অতি দ্রুত অর্থাৎ গত ৪ মে বাদ যোহর দেলোওয়ারা বেগমের লাশ দাফন-কাফন সম্পন্ন করে। আকিলা সরিফা সুলতানা খানম লোকমুখে জেনে সকাল ৯ টার দিকে ঘটনাস্থলে সাক্ষীগণসহ মা দেলোওয়ারা বেগমকে দেখতে গেলে, আসামিরা আকিলা সরিফা সুলতানা খানম ও সাক্ষীগণকে লাশ দেখতে দেয় না। উল্টো আকিলা সরিফা সুলতানা খানম ও সাক্ষীগণকে মৃত্যুর হুমকি প্রদর্শন করে। এতে সুষ্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে, আসামীগণ দলবদ্ধভাবে দেলোওয়ারা বেগমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করেছে। কাউকে তার দাফন-কাফন কাজে না ডেকে অতি গোপনে তার লাশ দাফন করেছে।
আকিলা সরিফা সুলতানা খানম আরো বলেন, আমার মায়ের সম্পদ লুন্ঠনকারীরা খুনের অভিযোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য নানা ধরনের অপকৌশল গ্রহন করছে। আমার বিশ্বাস অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক,সত্যকে তারা আড়াল করতে পারবে না। আমার মায়ের খুনীদের আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি ফরেনসিক বিভাগে যারা তদবির করছে,তাদেরকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই অনেক সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া জানান, তদন্তকালে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল মাহমুদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা আদালতে দাখিল করা হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com