নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ওষুধ নিতে গিয়ে এক শিশু (১১) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার মহাদিঘী গ্রামের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএইচসিপি ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান সুজাকে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ওই শিশু তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মহাদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে যায়। ক্লিনিকে সে সময় দায়িত্বরত ছিলেন সিএইচসিপি আতিকুর রহমান সুজা। অভিযোগ রয়েছে, সুজা কৌশলে শিশুর ছোট ভাইকে কক্ষের বাইরে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবগত করলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সুজা মহাদিঘী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি আত্রাই থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে সুজা অতীতেও এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রতিবারই পার পেয়ে যান।
এদিকে, এই জঘন্য অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে সর্বস্তরের এলাকাবাসী বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। আত্রাই থানা পুলিশের একটি দল বুধবার রাতে পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা আতিকুর রহমান সুজাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।