বরগুনার আমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি লাইব্রেরিসহ তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে আমতলী সরকারি কলেজ রোডসংলগ্ন বাহার লাইব্রেরিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও দুটি দোকানে। এতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র, বই, পোশাক, প্রসাধনীসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—বাহার লাইব্রেরি, যার স্বত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমান; বাবা-মায়ের দোয়া গার্মেন্টস, যার স্বত্বাধিকারী মো. মিলন হাওলাদার এবং সুমাইয়া কসমেটিকস, যার স্বত্বাধিকারী মো. নুরুল আলম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বাহার লাইব্রেরি থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশাপাশি থাকা দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। আগুনের ধোঁয়া ও মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা ও দ্রুত বিস্তারের কারণে দোকানগুলোর অধিকাংশ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী চপল চন্দ্র ঘরামী বলেন, সকালে মানুষের ডাকাডাকি শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন, বাহার লাইব্রেরি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাবা-মায়ের দোয়া গার্মেন্টসের মালিক মো. মিলন হাওলাদার বলেন, সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে বাহার লাইব্রেরিতে আগুন লাগার খবর জানান। খবর পেয়ে তালতলার বাসা থেকে দ্রুত দোকানে এসে দেখেন, তাঁর দোকানেও আগুন জ্বলছে। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য ধারদেনা, ঋণ এবং জমি বন্ধক রেখে পুঁজি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাঁর প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
বাহার লাইব্রেরির পরিচালক মো. ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, সকালে লাইব্রেরি খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে চা পান করতে সামনের একটি দোকানে যান। এর মধ্যেই লাইব্রেরিতে আগুন লাগার খবর পান। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে লাইব্রেরির সবকিছু পুড়ে যায়। এতে তাঁদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা।
তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তাঁর কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুব আলম বলেন, শনিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাহার লাইব্রেরির বৈদ্যুতিক কাটআউটে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অনেকেই ঋণ, ধারদেনা ও জমি বন্ধক রেখে ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহ করেছিলেন। এক মুহূর্তের আগুনে তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাঁদের পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।



