বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমি চুরি করে খাই, তবে জায়েজ করে খাই এমন মন্তব্য করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন সেখ। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ তদন্ত করে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চারা ক্রয় ও পরিচর্যায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান ওই মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
গত সোমবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনকে বলতে শোনা যায়, আমি চুরি করে খাই, তবে জায়েজ করে খাই। যেটুকু চুরি করলে মানুষের ক্ষতি হবে না, সেটুকু চুরি আমি করি। আমি মানুষের ক্ষতি করে কোনো কিছু করি না। পরিষ্কার কথা। এখানে সবার হক আছে। মেম্বার-চেয়ারম্যানের কি বেতন আছে?
এর আগে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চারা ক্রয় ও পরিচর্যায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫০ থেকে ৬০ টাকার চারা রোপণে গড়ে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। অনেক স্থানে রোপণের এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই চারা শুকিয়ে মারা গেছে। কোথাও গাছ পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও পরিচর্যার অভাবে চারাগাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রতিবেদনে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নে ৪০০টি গাছ রোপণে ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় দেখানোর তথ্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কালিয়া হরিপুর, ছোনগাছা ও শিয়ালকোল ইউনিয়নেও অনুরূপ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনের বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমাজ উদ্দিন বলেন, বহুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে এমন বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর ও দুঃখজনক। এতে ইউনিয়নের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ জন্য তার জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। কমিটিতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে সদস্য এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামারকে সদস্যসচিব করা হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খান বলেন, প্রচারিত সংবাদে প্রতিটি গাছের মূল্য যে টাকা বলা হয়েছে, তার সত্যতা মেলেনি। অন্যদিকে, কিছু গাছ মারা গেছে। সেসব গাছ পুনরায় নতুনভাবে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে৷
অন্যদিকে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও পরিচর্যার অভাবে চারা নষ্ট হওয়ার অভিযোগে বহুলী, শিয়ালকোল, ছোনগাছা ও কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের কাছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের বিষয়ে চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি যা বলছি, সেটা লিখে নাই। কথা এইভাবেই হবে। আমি চেয়ারম্যান হয়েছি, এ দেশের মানুষ সবাই বলে, সকল মেম্বার-চেয়ারম্যানরা চুরি করে খায়। সাধারণ জনগণের যে কথা, আমি তা তুলে ধরছি।




