ভূ-রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে নতুন উত্তাপে মানবসভ্যতা কি এক সর্বনাশার সম্মুখীন?
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা মানব সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাস ও অস্তিত্বের মোড় ঘোরানো এক গভীর সংকটের কালখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে এখন বইছে এক বরফশীতল ও বিধ্বংসী হাওয়া। আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের উন্মত্ততা, বিশ্ব মোড়লদের গোপন ও প্রকাশ্য কূটকৌশল, এবং নিত্যনতুন মারণাস্ত্রের আত্মপ্রকাশ বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছে এক অনিশ্চিত ধ্বংসের খাদের কিনারায়। ক্ষমতার লোভ, বেইমানি, মুনাফিকি আর স্বার্থপরতার এক নিকৃষ্টতম অধ্যায় রচনা করে চলেছেন বিশ্ব রাজনীতির চালিকাশক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তিরা।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলে আমরা যা দেখতে পাই, তাহা কয়েকটি ধাপে তুলে ধরলে দেখা যায়।
১. মারণাস্ত্রের নতুন প্রযুক্তি ও শক্তির সর্বোচ্চ প্রদর্শন:- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে অগ্রগতি মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে মানবজাতি বিনাশের ভয়ংকর সব সরঞ্জামে। পরমাণু প্রযুক্তির নগ্ন আস্ফালন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ন্ত্রিত ধ্বংসাত্মক ড্রোন নেটওয়ার্ক এবং মহাকাশ ও সমুদ্রতলে পাল্লা দিয়ে চলা গোপন সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী বিশ্বকে এক আতঙ্কের জনপদে রূপান্তর করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই মারণাস্ত্রগুলোর যেকোনো একটি ভুল ব্যবহার বা পরীক্ষামূলক আস্ফালন বিশ্ব ব্যবস্থার মানচিত্র চিরতরে বদলে দিতে পারে। সমরখাত ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মুনাফালোভী মানসিকতা মানবসভ্যতার সুস্থ্য জ্ঞান ও বিবেককে আজ সম্পূর্ণ বিকৃত করে ফেলেছে।
২. আঞ্চলিক আধিপত্য ও গোপন-প্রকাশ্য ভূ-রাজনীতির কূটচাল:- মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে বৈশ্বিক শক্তির প্রধান কেন্দ্রগুলোতে চলছে ক্ষমতার পৈশাচিক খেলা। আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও মানবতার সমস্ত সংজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরাশক্তিগুলো নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে লিপ্ত রয়েছে জঘন্য কুচক্রী ষড়যন্ত্রে। আঞ্চলিক সীমানা দখলের এই নোংরা খেলায় বলি হচ্ছে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রপ্রধানদের একে অপরের প্রতি চাটুকারিতা, পিঠটান দেওয়া নীতি এবং সুবিধাবাদী কূটনীতি আজ বিশ্বকে এমন এক জটিল অঙ্কে দাঁড় করিয়েছে, যেখান থেকে উত্তরণের কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
৩. অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ ও শক্তির লোভ:- বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, তার সরাসরি খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। জ্বালানি সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির যাতাকলে পিষ্ট বিশ্ব অর্থনীতি আজ এক গভীর খাদের মুখে। ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রনেতারা নিজেদের কুরসি পাকাপোক্ত করতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে মুদ্রানীতি ও বাণিজ্যের অস্ত্র ব্যবহার করছেন। জনগণের রক্তজল করা ঘামের বিনিময়ে কেনা সম্পদ আজ নীতিনির্ধারকদের কুক্ষিগতকরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
৪. মানবতাবিরোধী সিদ্ধান্ত ও প্রতারণার রাজনীতি:- আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করে রাষ্ট্রপ্রধানরা আজ মেতে উঠেছেন আত্মঘাতী উল্লাসে। মুখে বন্ধুত্বের বুলি আর আড়ালে পিঠে ছুরি মারার সংস্কৃতি বা চরম বেইমানি আজ বৈশ্বিক কূটনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। মানবতার সমস্ত আবেদনকে ধূলিস্যাৎ করে যেভাবে গোপন সমাঝোতা ও ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষি চলছে, তাতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা মানব ইতিহাসের পাতায় অন্যতম এক কালো অধ্যায় হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামতে উঠে আসা মন্তব্য:- বিশ্ব আজ এক এমন এক ক্রান্তিলগ্নে এসে উপস্থিত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতার মোহে অন্ধ রাষ্ট্রনায়কদের সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত সমগ্র মানবজাতিকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সময় এসেছে এই অন্ধ শক্তির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক বিবেককে জাগ্রত করার-নতুবা এই প্রযুক্তির দাপট ও স্বার্থপর রাজনীতির করাল গ্রাসে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে মানব সভ্যতার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়!




