1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন, শিক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রী মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ পিরোজপুরে নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: বছরব্যাপী নানা আয়োজনের ঘোষণা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন; নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা আত্রাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশু ধর্ষণ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ অভিযুক্ত গ্রেফতার, এলাকায় বিক্ষোভ ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র জুলাই শহীদ স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় জামায়াতের উদ্বেগ পায়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি রানী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

আশাশুনি সরকারি কলেজের শিক্ষক এক্স ক্যাডেট পদক প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এছাহক এর বর্ণাঢ্য জীবন

আমিরুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪১২ বার পড়া হয়েছে
আশাশুনি সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ক্যাপ্টেন মো. এছাহক আলী ছাত্রজীবন থেকে সুশৃংখল জীবন যাপন ও মেধাবী ছাত্র হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। ৫৩ বছর বয়সে এসে তিনি তার কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ এক্স ক্যাডেটস পদক-২০২৪ এ ভূষিত হয়ে আশাশুনি সরকারি কলেজের সুনাম এনে দিয়েছেন।
ক্যাপ্টেন মোঃ এছাহক আলী ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. রমজান আলী সরদার, মাতা সমেত্তবান বিবি। ১৯৮৭ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ, ১৯৮৯ সালে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড হতে স্কলারশিপ পান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বিভাগে ডিগ্রী পাস করেন। ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইতিহাস বিষয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রী পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকার করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। ঢাকায় পড়াকালীন শিক্ষা ও চাকুরীতে বৈষম্য প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ায় তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে তার বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়েছিল (যার স্মারক নং- রাস/এসচিব ২/৯৮-১৯৯১ তারিখ-২৬/১০/১৯৯৪)।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। সহধর্মিনীর নাম শারাবান তহুরা। মো. মোর্তজা তোরাব নামে এক ছেলে ও ইশরাত আরা মিম ও ইফফাত আরা মম নামে দুটি যমজ মেয়ে রয়েছে তাদের। কর্মজীবনে তিনি আশাশুনি সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে ১০ জুন ১৯৯৮ সালে যোগদান করে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। ব্যক্তিগত জীবনে শৃঙ্খলা ও কর্মকে ভালবাসেন তাই বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এ ২৫ মার্চ ১৯৯৯ সালে প্রফেসর আন্ডার অফিসার (পিইউও) হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম থেকে প্রি- কমিশন ট্রেনিং ৬ এপ্রিল ২০০২ ইং থেকে ২০ জুন ২০০২ পর্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালের সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন এবং লেফটেন্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পান ২০০৭ সালে। তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান ২০১৪ সালর। দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবন রেজিমেন্ট ০১ সুন্দরবন ব্যটালিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাটুন সমূহ পরিদর্শনসহ তদারকি করছেন। তিনি বিএনসিসিতে নিযুক্তির পর থেকেই প্রতি বছর বার্ষিক প্রশিক্ষণ অনুশীলন, ব্যাটালিয়ন প্রশিক্ষণ অনুশীলন, ফায়ারিং প্রশিক্ষন অনুশীলন এ সহকারী অফিসার ইনচার্জ, অফিসার ইনচার্জ, উপ-অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ ২০০২ -এ অংশগ্রহণ করে ৫৫ ব্রিগেডের ডি ব্রিফিং এ মেজর জেনারেল আশফাক এর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। এ্যাডভান্স লিডারশীপ কোর্স ২০১২ -এ সদর দপ্তর বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর উত্তরা, ঢাকায় কোর্স সিনিয়র হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পর্যায়ে মহান স্বাধীনতা দিবস ও মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ- এ বহুবার অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ২০০২ সাল হতে সুন্দরবন রেজিমেন্টের একমাত্র প্যারেড কমান্ডার হিসেবে অদ্যাবধি সুখ্যাতি অর্জন করে আসছেন। ২০০৩ সালে সুন্দরবন রেজিমেন্ট কর্তৃক শ্রেষ্ঠ পিইউও নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক হিসেবে জেলা থেকে পুরস্কৃত হন। ২০১০ সাল থেকে সোর্ড নিয়ে প্যারেড করেন। কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ অনুশীলনে ২০২৩ সালে Best shooter এবং রেজিমেন্ট ক্যাম্পিং ২০২৪ সালে ৪.৫ গ্রুপিং করে Best shooter হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এর একজন প্যারেড কমান্ডার, Best shooter এবং একজন উচ্চ মানের প্রশিক্ষক হিসেবে প্রত্যেক প্রশিক্ষণ অনুশীলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি একজন কর্ম উদ্যমী ব্যক্তি বিএনসিসি প্রশিক্ষণ দ্বারা প্রভাবিত। লেঃ কর্নেল মো. তৌফিক-ই-ইলাহী (পিএসসি রেজিমেন্ট কমান্ডার) তাকে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে একটি ডিও লেটার ও একটি ক্রেস্ট প্রদান করেন। যার নং পিএফ/২৭১৪/ডিও তাং- ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১১। লেঃ কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী (পিএসসি রেজিমেন্ট কমান্ডার, সুন্দরবন রেজিমেন্ট, শিরোমনি, খুলনা) সুন্দরবন শিক্ষা সফর উপলক্ষে শিক্ষা সফর পরিচালনার কমান্ডার হিসেবে তাকে একটি স্টিক প্রদান করেন। তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬-এ উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ট বিএনসিসি শিক্ষক হিসেবে নির্ধারিত হন। ২০১৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক হিসেবে পুরষ্কার প্রাপ্ত ও রাষ্ট্রীয় ভাবে সংবর্ধিত হয়েছেন। মহান বিজয় দিবস প্যারেড -২০১৭ -এ বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) বাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পান। শ্রীলংকার Hermann Loss Challenge Trophy Camps 2018- এ যোগদান করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তর এর একটি চৌকষ দল ২০ অক্টোবর ২০১৮ কলম্বোর উদেশ্যে রওনা হন। ক্যাপ্টেন মো. এছাহক আলী উক্ত দলের একজন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। তিনি শ্রীলংকার মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, মাননীয় সশস্ত্র তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মাননীয় মহাপরিদর্শক পুলিশ এবং Kothalawala Defence University, Srilanka এর মাননীয় উপাচার্যর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মেজর প্রফেসর মো. বজলুল করিম (অবঃ) এর সম্পদনায় “বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বির্বতনের ধারায়” বই সম্পাদনায় সহযোগি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য সামাজিক কাজের সাথে জড়িত আছেন। তিনি এক্স্-ক্যাডেটস্ পদক ২০২৪ প্রাপ্ত হওয়ায় আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ সহ কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com