গ্রেপ্তারের মাত্র একদিনের মাথায় এক আওয়ামী লীগ নেতার রহস্যজনক জামিন পাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদেরকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুটিসহ মোট তিনটি মামলার তথ্য আদালতের কাছে গোপন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর নিসবেতগঞ্জ এলাকা থেকে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম দুলালকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
তবে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য গোপন করে পুলিশ।
তাকে কেবল একটি পুরনো বিদ্যুৎ আদালতের ওয়ারেন্টে সোপর্দ করা হলে তিনি পরদিনই আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান এবং পুনরায় আত্মগোপনে চলে যান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নগরীর সুপার মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ১৪ মার্চ জয়নাল আবেদীন বাপ্পী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন, যেখানে দুলাল ৪৪ নম্বর আসামি। এ ছাড়া একই দিন কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এলাকায় হামলার অভিযোগে গত ৯ মে রমজান আলী বাদী আরেকটি মামলা করেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের ২১ আগস্ট নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এসআই মজিবর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।
আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য কোতোয়ালি থানা কর্তৃক গোপন করার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির স্থানীয় নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ওসিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তীব্র সমালোচনার মুখে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সত্যতার ভিত্তিতে ওসি এ কে এম নাজমুল কাদেরকে রংপুর থেকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) তিনি রংপুর ছেড়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
শু




