পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এক বিধবা ভিক্ষুকের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। জানা গেছে, উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৪নং দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের মৃত জজ আলী হাওলাদারের একমাত্র মেয়ে লজ্জাতুননেছা (লজ্জা)। জজ আলীর আর কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় লজ্জাতুননেছা স্বামী-সন্তান নিয়ে পিতার বাড়িতেই থাকতেন। তার স্বামীও কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। হাটবাজার ও মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন তিনি।
লজ্জার প্রতিবেশী প্রভাবশালী আনোয়ার হোসেন মৃধা ও মজিবর রহমান মৃধা ২০ বছর আগে লজ্জার বসতবাড়ির ঘর বাদে বাকি জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এক বছর আগে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাড়ির রাস্তা কেটে একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। পরে লজ্জা স্থানীয়দের স্মরণাপন্ন হলে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শালিস বৈঠক করে ওই ভিক্ষুককে কাঁটাতারের বেড়া খুলে বেদখল থাকা ২৬ শতক বাগানবাড়ি পরিমাপ করে দেয়। এরপর আনোয়ার মৃধা লজ্জাতুননেছা, তার ছেলে, মেয়ে ও জামাইয়ের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
ভিক্ষুক লজ্জা জানান, “আনোয়ার হোসেন মৃধা ও মজিবর রহমান মৃধা আমার পৈত্রিক জমি ২০ বছর ধরে দখল করে খাচ্ছে। এর মধ্যে শালিসদাররা আমাকে ২৬ শতক জমি বুঝিয়ে দিলে তারা আমার ও আমার সন্তানদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।”
স্থানীয় ভূমি জরিপকারী ফাইজুল কবির বলেন, “শালিস বৈঠকে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বসতবাড়ি থেকে ২৬ শতক এবং ধানের মাঠ থেকে ২৪ শতক জমি লজ্জা প্রাপ্ত হন।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, কাগজপত্র বিবেচনায় হিসাবান্তে লজ্জাকে বসতবাড়ি থেকে ২৬ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৪ শতক জমি ধান উঠলে ধানের মাঠ থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। পরে একটি পক্ষ লজ্জা ও তার সন্তানদের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা করেছে।
লজ্জার প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার ও আজিজ মৃধা জানান, উক্ত জমি লজ্জার পৈত্রিক সম্পত্তি। এতদিন আনোয়ার হোসেন মৃধা ও মজিবর রহমান মৃধা জোর করে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিল। এখন শালিসি বৈঠকে লজ্জা জমি ফেরত পেলে উক্ত পক্ষ লজ্জা ও তার সন্তানদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।