1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রূপগঞ্জে ১,১০৭ বোতল স্ক্যাপ সিরাপ উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মাননীয় মন্ত্রী, ভালো উত্তর দিতে পারলে আপনিও জান্নাতে যেতে পারবেন: স্পিকার গৃহস্থলী প্রদর্শনী পুকুরে উপকরণ বিতরণ করেছে শিবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎহীন ‘সলঙ্গা কেন্দ্রীয় গণপাঠাগার’ বেরোবির কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন পরিস্থিতি যেমনই হোক ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: গালিবাফ জ্বালানি খাতে তুরস্কের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ পানি না নামা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল বন্ধ থাকবে এবার স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎহীন ‘সলঙ্গা কেন্দ্রীয় গণপাঠাগার’

জি,এম স্বপ্না
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে
​সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বওলাতলা গ্রামে অবস্থিত ‘সলঙ্গা কেন্দ্রীয় গণপাঠাগার’ যেন এক নিভৃত পল্লীর জ্ঞানের বাতিঘর। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি কেবল বইয়ের সংগ্রহশালাই নয়,বরং অত্র এলাকার পাঠকদের জন্য হয়ে উঠেছে সৃজনশীল চিন্তা ও জ্ঞান আহরণের এক অনন্য মিলনকেন্দ্র। কিন্তু আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই বাতিঘরটি আজ যেন কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে।
​পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর রহমান। সমাজ বিনির্মাণে বইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি নিজের ৪ শতাংশ জমি পাঠাগারের নামে রেজিস্ট্রেশন করে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ভবনটি পাকাকরণ হওয়ার পর এটি অবকাঠামোগতভাবে শক্ত ভিত্তি পেলেও,পাঠাগারটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে বর্তমানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ সংকট।
বর্তমানে এই পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৬৭৫টি। এখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক নানাবিধ বই থাকলেও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। প্রতিদিন নিয়ম করে ১০-১৫ জন নিয়মিত পাঠক এখানে আসেন। যদিও পাঠাগারটিতে একসাথে ৩৫ জন পাঠকের বসার মতো চমৎকার পরিবেশ রয়েছে, তবুও বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় দিনের আলোর ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় তাদের। পাঠাগারটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, যিনি নিয়মিত এর সার্বিক দেখভাল করেন।
​বইয়ের বিশাল সংগ্রহ আর বসার সুব্যবস্থা থাকলেও, এখানে বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সন্ধ্যার পর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা, যারা দিনের বেলায় অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তারা সন্ধ্যার পর এখানে পড়াশোনা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
​এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক হোসেন আলী হতাশা ব্যক্ত করে বলেন,একটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকাটা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশাজনক। আজকের যুগে বিদ্যুতের আলো ছাড়া পাঠাগারের পরিবেশ কল্পনা করা যায় না। সন্ধ্যার পর পাঠকরা চাইলেও এখানে আসতে পারেন না, অথচ এই সময়েই শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগারটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পাঠাগারটি সচল ও আকর্ষণীয় রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া বা বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
​একই অভিমত ব্যক্ত করে স্থানীয় হাফিজুর রহমান মাস্টার বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বইমুখী করার জন্য এই পাঠাগারটি একটি বড় হাতিয়ার। কিন্তু দিনের পর দিন বইয়ের সংগ্রহ পুরনো হয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে পাঠকদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। পাঠাগারটিকে আধুনিকায়ন করতে হলে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
​এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
বওলাতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার সচেতন মানুষের জোর দাবি— পাঠাগারটিতে দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করে একে আধুনিকায়ন করা এবং পাঠকদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে নতুন নতুন বইয়ের সংগ্রহ বাড়ানোর ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেছেন।
​সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ পেলে এই পাঠাগারটি কেবল বওলাতলা নয়, পুরো সিরাজগঞ্জ জেলার জন্য একটি আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে— এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। এই জ্ঞানের বাতিঘরটি কি তবে এভাবেই অন্ধকারে পড়ে থাকবে? সেই উত্তর এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com