ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবকে ঘিরে আবারও গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। প্রেসক্লাবের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির দাবি, অতীতে জোরপূর্বক কমিটি দখলকারী একটি চক্র নতুন করে সংগঠনটিকে অস্থিতিশীল করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অস্ত্রের মুখে সদস্যদের জিম্মি করে একটি পক্ষ প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং দীর্ঘ সাত বছর সংগঠনটির দায়িত্বে থাকে। ওই সময় নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন বর্তমান কমিটির নেতারা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রকৃত সাংবাদিকদের দাবির মুখে ওই কমিটি বিলুপ্ত হয়।
সম্প্রতি প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলে নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি কিছু সুবিধাবাদী সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘ ১৪ বছর পর নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বায়ক কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন প্রচারণাও চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান টিপু বলেন, “এই কমিটি প্রেসক্লাব দখলের জন্য নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করছে। তরুণ সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজনই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “একটি চক্র নিজেদের স্বার্থে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং পাল্টা কমিটি গঠনের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি আদালতে মামলাও করা হয়েছে। তবে এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করে প্রকৃত সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা হবে।”
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।