কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ভূমি সেবা সহজীকরণ, হয়রানি কমানো এবং সরকারি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন সেবা গ্রহন কার গন। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন,দাগ সংশোধন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবায় দালাল নির্ভরতা কমাতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে অফিস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অন্যন্য ভুমিকা গ্রহন করেছেন। ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে তিনি আইনানুগ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধান পাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি অবৈধ বালু ও মাটি কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এস এম মেহেদী হাসান। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে ইস্কেভেটর (ভেকু) ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ব্যবহৃত একাধিক ট্রাক ও ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও সরকারি,এবং কৃষি জমির ক্ষতির দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও প্রদান করা হয়, যা অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে।স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু ও মাটি কেটে কৃষিজমি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছিল। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান শুরু হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।এছাড়াও সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
সেবা প্রত্যাশী ৩ জানান, আগের তুলনায় বর্তমানে ভূমি অফিসে কাজ করতে এসে হয়রানি অনেক কমেছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করলে সময়মতো সেবা নিশ্চিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সচেতন মহল মতে, উলিপুরে ভূমি প্রশাসনে সুশাসন, নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানের এই দৃঢ় পদক্ষেপ একটি প্রশংসনীয় এবং অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান জানান, বৃহৎ উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ও ০১ টি পৈরসভায় আমরা নিয়মিতভাবে ভূমি সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষ যেন সহজ, স্বচ্ছ ও সময়মতো সেবা পায় এবং সেবা গ্রহণের সময় কেউ হয়রানির শিকার না হয়। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। এই অভিযান পরিচালনায় আমরা সর্বদা সচেতন থাকি যাতে সাধারণ মানুষ বা কৃষিজমির ক্ষতি না হয় এবং শুধুমাত্র অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। আমি চাই, প্রতিটি সেবা গ্রহণকারী সরকারি সেবার নিয়ম ও প্রক্রিয়া শিখুক এবং আমাদের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠুক। আমাদের লক্ষ্য হলো বৃহৎ উলিপুর উপজেলাকে ভূমি প্রশাসনে একটি উদাহরণস্বরূপ সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও প্রশংসনীয় এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।