পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সরকারি দপ্তরের একজন গাড়িচালকের অনৈতিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ মিনিটের ভিডিওটিতে এক নারীর সহ গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জানা যায়, সুইটি নামের এক অসহায় ও স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর পাইয়ে দেওয়া ও বিয়ের প্রলভন দেখিয়ে ইউএনও কার্যালয়ের পিছনে ড্রাইভারের বিশ্রাম রুমে মেয়েটির সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে, সেই ভিডিও ধারণ করে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন কলাপাড়া উপজেলার ইউএনও এর ড্রাইভার প্রভাবশালী আফজাল হোসেন।
অপর ভুক্তভোগী নারী সিমা জানান, আমার একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলতে থাকে, তখন আমি ইউনএনও কার্যালয়ে গেলে আফজালের সাথে পরিচয় হয়, তিনি আমাকে ঘরের সমস্যা মিটিয়ে দিবে বলে আমাকে বিয়ের প্রলভন ও কুপ্রস্তাব দেন।
তবে অপর একটি সূত্রে জানা যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চালক মোঃ আফজাল হোসেন কলাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তার অফিস পাড়ায় প্রভাব ছিলে সব চেয়ে বেশী। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা নিতেন সব সময় এমনকি বিভিন্ন এনজিও থেকে দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য ছাগল, সেলাই মেশিন পাইয়ে দেয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছে অর্থ। এছাড়া সরকারি গাড়ি থেকে তৈল চুড়ির ঘটনা ছিল তার প্রতিদিনের রুটিন। অপর আরেকটি সূত্রে জানা যায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বালিমহলের কাজ দিবে বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সেই কাজ না দিয়ে আফজাল সেই টাকা আত্মসাৎ করেন। কলাপাড়া পৌর সভার বাসা বাড়ি প্লানের নামে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে দুস্থদের নামে ঢেউটিন ও আর্থিক পাইয়ে দেয়ার নামে হাজার হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে বীর দর্পে। বিভিন্ন খাস খতিয়ানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে ইউএনও কলাপাড়ার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা উপর্জন করে কলাপাড়া পৌর শহরের রহমাতপুর এলাকায় গড়ে তুলেছে ভবন। এলাকাবাসীর অভিযোগ এই অনিয়ম করা আফজালের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফজাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিউজ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন ভিডিওটি একজনের আর কন্ঠ অন্য এক নারীর।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ভিডিওর বিষয়টি কলাপাড়া ইউএনও’র মাধ্যমে জেনেছি ড্রাইভারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।