কলারোয়া, সাতক্ষীরা: প্রতিদিনের মতোই চোখে একরাশ স্বপ্ন আর আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল সুরাইয়া খাতুন (১৮)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বেত্রাবতী স্কুলের সম্মুখ পথটিই হলো তার জীবনের শেষ সীমানা। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একটি অবৈধ মাটিবাহী ট্রলি ও ইজিবাইকের মর্মান্তিক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন কলারোয়া সরকারি কলেজের এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
সোমবার সকালে কলারোয়া বেত্রাবতী হাইস্কুলের মূল ফটকের সামনে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুরাইয়া খাতুন উপজেলার ছলিমপুর গ্রামের ওজিয়ার গাজীর কন্যা। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ:
সহপাঠীকে হারানোর বেদনায় আজ কলারোয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় সাধারণ জনতা রাজপথে নেমে আসেন। শোকাতুর শিক্ষার্থীরা একটি বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি পেশ করেন:
১. সড়কে চলাচলকারী সকল অবৈধ মাটিবাহী ট্রলি ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
২. কৃষি জমি ধ্বংসকারী অবৈধ মাটি উত্তোলন প্রক্রিয়া রোধ করা।
৩. স্থানীয় চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আশ্বাস:
বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন নাহার। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিসমূহের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আগামীকাল থেকেই সড়কে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
প্রশাসনের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে শিথিল করেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুরাইয়ার মতো আর কোনো প্রাণ যেন এভাবে ঝরে না যায়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন করুণ সমাপ্তি যেন কলারোয়ার সড়ক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের সূচনা করে—এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।