সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার প্রান্তিক জনপদ এখন পটলের সবুজ সজীবতায় ভরপুর। ভোরের শিশিরভেজা মেঠো পথ মাড়িয়ে যখন ভ্যান আর সাইকেলের চাকা ঘোরে দমদম নতুন বাজারের দিকে, তখন শুরু হয় এক নীরব বিপ্লবের গল্প। এই গল্প কোনো রাজপ্রাসাদের নয়, এ গল্প কলারোয়ার ঘামঝরানো মেহনতি কৃষকের।
সরেজমিনে দমদম নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায় এক কর্মযজ্ঞের মহোৎসব। চারদিকে নীল বস্তার সারি, যা দেখে মনে হয় যেন আকাশের নীল রঙ মিশেছে মাটির ফসলে। প্রতিটি বস্তার ভেতর বন্দি হয়ে আছে কোনো এক কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কিংবা পরিবারের আগামী দিনের স্বপ্ন। কৃষকরা তাদের খেতের সেরা পটলগুলো নিয়ে হাজির হয়েছেন বাজারে। কেউ ব্যস্ত পাল্লায় ওজন দিতে, কেউ আবার নীল জালের বস্তায় পরম মমতায় পটলগুলো সাজিয়ে রাখছেন দেশের দূর-দূরান্তে পাঠানোর অপেক্ষায়।
হাটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজকের বাজারে পটলের দাম ছিল বেশ সন্তোষজনক। মানভেদে প্রতি কেজি পটল সর্বোচ্চ ৭০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারের এই স্থিতিশীল দরে বিক্রেতাদের মুখে যেমন স্বস্তির হাসি দেখা গেছে, তেমনি ক্রেতারাও মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
হাটের ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে থাকে কৃষকের হাসি-কান্নার রসায়ন। দমদম বাজারে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলো যেন প্রস্তুত হয়ে আছে কৃষকের এই স্বপ্নগুলোকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে।
স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখর এই হাট কেবল একটি ব্যবসার জায়গা নয়, এটি কলারোয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে কৃষকরা যখন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে আনেন, তখন তাদের দাবি একটাই—ন্যায্যমূল্য আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ, এই পটলের ডগাতেই ঝুলে থাকে উপজেলার হাজারো পরিবারের জীবিকার চাবিকাঠি।
দমদম নতুন বাজারের এই পটল হাট আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাংলার প্রাণ জড়িয়ে আছে কৃষিতেই। এই সবুজ বিপ্লব টিকে থাকুক কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়ে, কলারোয়ার সমৃদ্ধি আসুক আরও উজ্জ্বল হয়ে।