সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বন্ধ এবং চালু করার নামে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনা কালিগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ মে-২৬, সোমবার বিকাল ৫টায় উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মকুন্দপুর গ্রামে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এই দুর্নীতি ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি ৩’শ টাকা হতে ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে হঠাৎ ২০২২ সালে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। তার ভাতা চালু করার নামেও আব্দুল হাকিম কয়েক দফায় ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। আবুল হোসেন এখন ভাতা ও বীর নিবাস তো দূরের কথা, তার প্রাপ্য সম্মানটুকুর জন্যে লড়াই করছেন। তিনি বসবাস করেন নাজুক, ভঙ্গুর ও জরাজীর্ণ একটি ঘরে। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে তিনি জানালেন মান্েতর জীবনযাপন ও করুণ অসহায়ত্বের কথা।
এমনিভাবে কালিগঞ্জ উপজেলার আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা এই দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দীর্ঘদিনের সম্মান ও ভাতার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। এই বিষয়েে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ধরণের ঘটনা জীবন বাজী রেখে ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আঘাত এনেছে। তাদের অবদানকে অসম্মানিত করার এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ভুক্তভোগীসহ সবাই আশা করে, শীঘ্রই এই দুর্নীতির পেছনের সত্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীদের প্রচলিত আইনে শাস্তি দেওয়া হবে।