কয়রায় চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ: সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে দায়িত্বে অবহেলা এবং গুরুতর অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।

​গত ২৪ অক্টোবর কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এ চিঠি খুলনার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়। পাশাপাশি এর অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এবং কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে

​অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে আড়াই মাসের শিশু মুয়াজ জ্বর ও খিঁচুনি নিয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসে। এ সময় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুন শিশুটিকে প্রাথমিক অবস্থায় দেখেন।

​তবে শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি শিশুটির সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তখন দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে অবহিত করারও কোনো উদ্যোগ নেননি ওই মেডিকেল অফিসার।

​এর প্রায় ৩০ মিনিট পর শিশুটির অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে পুনরায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তামান্না খাতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

​অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও দায়িত্ব পালনে অবহেলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভাবমূর্তি ও চিকিৎসাসেবার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

​এদিকে শুধুমাত্র অভিযুক্ত এসএসিএমও নন, বরং ঘটনার দিন রোস্টার বা শিডিউল অনুযায়ী জরুরি বিভাগে যেসকল চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “শিশু মুয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুনের দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top