খুলনার এনসিপি নেতা মোতালেব সিকদারকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলি বর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। ঘটনার পর ঘাতকরা যাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সাতক্ষীরা সীমান্ত জুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি (২২/১২/২০২৫) সোমবার দুপুর ১ টা থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির টহল ও নজরদারি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে চলছে কড়া তল্লাশি। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি চেকপোস্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা ভোমরা বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট শহরের প্রবেশপথ সাতক্ষীরা বাঁকাল কলারোয়া সীমান্তে ঝাউডাঙ্গা কেড়াগাছি বিজিবি চেকপোস্ট সহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে বসানো হয়েছে অস্থায়ী তল্লাশি কেন্দ্র। সাতক্ষীরা থেকে সীমান্ত অভিমুখে যাওয়া প্রতিটি যানবাহন—বাস, প্রাইভেটকার, এমনকি মোটরসাইকেলও বিজিবির কড়া চেকিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।
সীমান্ত ‘সিল’ ও টহল জোরদার বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়ন ও সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকা কার্যত ‘সিল’ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম সীমান্ত পথগুলোতে বিজিবির বিশেষ টহল দল দিনরাত কাজ করছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে দ্রুত খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, খুলনায় এনসিপি নেতা মোতালেব সিকদারকে মাথায় লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হামলার পর থেকেই অপরাধীদের গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধীরা সাতক্ষীরা সীমান্ত ব্যবহার করে পালানোর চেষ্টা করতে পারে, আর সেই শঙ্কা থেকেই এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বর্তমানে পুরো জেলা জুড়ে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা বলয় দৃশ্যমান রয়েছে।