ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তাপ বাড়ছে ‘আওয়ামী লীগের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ–৩ আসনে (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
এই আসনটি ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন ভোটার নিয়ে গঠিত। আসনটিতে রয়েছে পুরুষ ভোটার: ১,৫৮,৪০৩ জন ,নারী ভোটার: ১,৫০,৩৮০ জন,তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ১ জন,ইউনিয়ন: ১৬টি, পৌরসভা: ২টি, মোট ভোটকেন্দ্র: ১০৮টি।
এই আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস বলছে, এ আসন থেকে শেখ হাসিনা ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থী বিজয়ী হননি বললেই চলে। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভিন্ন বাস্তবতায়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৬ জন দলীয় এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রধান আলোচনায় থাকা তিন প্রার্থী হলেন—
এস এম জিলানী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। তাঁর পক্ষে রয়েছে সুসংগঠিত দলীয় কাঠামো ও শক্ত সমর্থন।
অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব
স্বতন্ত্র প্রার্থী, ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত এই প্রার্থীর টুঙ্গিপাড়া এলাকায় শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে দাবি ভোটারদের।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক
স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক ভোটারের মতে, যদি হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে যায়, তবে তিনি বড় চমক দেখাতে পারেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়ায় প্রায় ৯৪ হাজার ভোটার রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।
অনেক ভোটার মনে করছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে, যে প্রার্থী সেই ভোট পাবে—তিনিই বিজয়ী হবেন।”
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দলীয় কাঠামোর কারণে এস এম জিলানীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত।
সাধারণ ভোটারদের মতে, গোপালগঞ্জ–৩ আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন। ফলে দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটব্যাংক যেদিকে স্থানান্তরিত হবে, মূলত সেখানেই ফলাফলের পাল্লা ভারী হবে।
একজন ভোটার বলেন এই আসনে আদর্শের চেয়ে ভোটব্যাংক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থীর ব্যালটে পড়ে, সেটিই নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন আগামী সংসদ সদস্য।”
সব মিলিয়ে, গোপালগঞ্জ–৩ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটারদের আচরণ, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ এবং দলীয় বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।