বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের গঠিত প্যানেলের প্রচারণা চালালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করছেন, রহমত আলী, আশিকুর রহমান আশিক, সাকিব আল হাসান এবং আলাউদ্দিন আলভীসহ অনেকে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, যারা পূর্বে সহপাঠীদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনায় জড়িত। তাদের এই প্যানেলে দেখে শিক্ষার্থীরা হতাশ। অন্যদিকে, ছাত্রদলসহ বিরোধী সংগঠনগুলো এই প্যানেলকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কর্মীরা গঠিত প্যানেলের পক্ষে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং ও ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। তবে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী *সজিব গাজী* বলেন, *”আমার বিভাগের এক জুনিয়র, যে সক্রিয় ছাত্রলীগের কর্মী ছিল, সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেলের সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলে আপলোড দিয়েছিল এবং সৈরাচার শেখ হাসিনার মিছিলসহ সকল অনৈতিক কাজকে সমর্থন দিয়ে পোস্ট দিয়েছিল। তার আনুগত্য ছাত্রলীগের প্রতি স্পষ্ট। সে তার বন্ধুদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যেত, অংশ না নিলে হলে বা মেসে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাদের মাধ্যমে নির্যাতন করত। সেই একই ব্যক্তি এখন ছাত্র সংসদের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে!*
এআইএস বিভাগের *তানভীর ইসলাম দিদার* বলেন, “যারা ছাত্রলীগের নামে আমাকে মেসে নির্যাতন করেছে, তারাই এখন ছাত্র সংসদে প্যানেল হয়ে ক্যাম্পেইন, লিফলেট এবং প্রচারণা চালাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবারও ফাঁদে পড়বে। তারা আমাদের প্রতিনিধি হতে পারে না। আমরা আন্দোলন করে এই প্যানেলকে বাতিল করব, তাদের প্রচারণায় বাধা দেব। আগামীকাল তারা অনসন করবে এসব সার্কাস বেরোবির শিক্ষার্থী মজার সাথে অনুভব করবে, সঙ্গ কেউ দিবে না।
বাংলা বিভাগের *জাকির হাসান জিম* বলেন, *”ছাত্র সংসদ হওয়া উচিত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। কিন্তু যারা সংগঠনের নামে সহপাঠীদের ওপর অত্যাচার করেছে, তাদের এই সংসদে দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীদের ভোটের অধিকার থাকলেও, প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।” আমরা শুনতেছি তারা আগামীকাল থেকে অনসন কর্মসূচি ঘোষনা করেছে, কিন্তু তারা কোন বেসিসে রোড ম্যাপ চাচ্ছে, কোন কোন স্টেক হোল্ডারদের সাথে কথা বলে এমন সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে তা ক্লিয়ার না,তারা পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এখন পূর্বের ন্যায় জোড় করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে।
বিরোধী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই প্যানেলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বেরোবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক *আল আমিন*
বলেন আমরা ছাত্র সংসদ চাই। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সকল ক্রিয়াশীল সংগঠনের মতামত না নিয়ে অন্ধকারে কোনো কিছু হলে তা মেনে নেওয়া হবেনা। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িতদের সাথে নিয়ে তড়িঘড়ি করে কোনো কিছু করা যাবেনা। অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে প্রশাসন কে।
ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীরা থেকে গঠিত এই প্যানেলের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিরোধী সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, ছাত্র সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও সহনশীল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে কোনো সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্য না থাকে।