সোমবার ২ মার্চ
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের চরম বেহাল দশা এবং ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ধীরগতির প্রতিবাদে সোমবার বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মহাসড়কের কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ জনতা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. দ্রুত সংস্কার: বর্তমান সড়কের বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ ভরাট করে অবিলম্বে চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
২. কাজে গতি আনা: ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ যা গত ৫ বছরে মাত্র ৩.৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, তা দ্রুত শেষ করতে হবে।
৩. ক্ষতিপূরণ প্রদান: জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা টাকা কোনো হয়রানি ছাড়াই দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
৪. ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণ: কাজ চলাকালীন নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলোবালিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ থেকে যশোর পর্যন্ত ৪৭.৫ কিলোমিটার অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ধুলোবালির কারণে রাস্তার দুই পাশের বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
উল্লেখ্য যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রায় ৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু চেক বিতরণ নয়, মাঠ পর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি চাই।
উপসংহার:
মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়কটি সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি যেমন—পথসভা ও চাকা বন্ধের মতো আন্দোলন ডাক দেওয়া হবে।