1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন, শিক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রী মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ পিরোজপুরে নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: বছরব্যাপী নানা আয়োজনের ঘোষণা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন; নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা আত্রাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশু ধর্ষণ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ অভিযুক্ত গ্রেফতার, এলাকায় বিক্ষোভ ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র জুলাই শহীদ স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় জামায়াতের উদ্বেগ পায়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি রানী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

ট্যালেন্টফুল বৃত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জের নাবিলা প্রথম—পরিশ্রমের নীরব বিজয়

মিয়া সুলেমান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে
সাফল্য অনেক সময় শব্দ করে আসে না—নীরব সাধনা, একাগ্রতা আর আত্মবিশ্বাসের গভীরতায় তার জন্ম। ঠিক তেমনই এক অনুপ্রেরণাময় সাফল্যের গল্পের নাম নাবিলা তাহসিন তোড়া। অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় ট্যালেন্টফুল বৃত্তি অর্জন করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে সে প্রমাণ করেছে—স্বপ্ন যদি স্পষ্ট হয়, পরিশ্রম কখনো ব্যর্থ হয় না।
এই সাফল্য নাবিলার একার নয়; এটি তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং পুরো এলাকার সম্মিলিত গর্ব। ঈশ্বরগঞ্জের শিক্ষা-আকাশে নাবিলার নাম এখন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
নাবিলার প্রতিদিনের জীবন ছিল লক্ষ্যভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। স্কুল শেষে বিশ্রামের বদলে তার সময় কেটেছে বইয়ের পাতায় ও চিন্তার গভীরতায়। প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশোনা, ধারাবাহিক রিভিশন এবং মননশীল অনুশীলন—এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাবিলা বলে,
“আমি খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। নিজের পরিশ্রমের ফল হাতে পেয়ে সত্যিই গর্ব অনুভব করছি।”
ভয় নয়, অধ্যবসায়ই ছিল তার প্রধান শক্তি। অনেক শিক্ষার্থী যেখানে গণিত ও ইংরেজিকে কঠিন মনে করে, নাবিলা সেখানে বাড়তি মনোযোগ ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে নিজের করে নিয়েছে। শিক্ষক ও বাবা-মায়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কঠিন অধ্যায়গুলোও তার কাছে সহজ হয়ে উঠেছে।
নাবিলার ভাষায়, “নিয়মিত পড়াশোনা করায় কোনো বিষয়ই খুব কঠিন মনে হয়নি।”
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মানসিক সমর্থন। বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবিরাম উৎসাহ, বিশ্বাস ও ইতিবাচক দিকনির্দেশনা তাকে বারবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। পরীক্ষার আগে মানসিক চাপ সামাল দিতে নামাজ ও দোয়া ছিল তার মানসিক প্রশান্তির প্রধান আশ্রয়—যা তাকে স্থির ও আত্মবিশ্বাসী থাকতে সহায়তা করেছে।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়েও নাবিলা স্পষ্ট ও মানবিক। সে বলে, “প্রথমত আমি একজন ভালো মানুষ হতে চাই। পাশাপাশি ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই—ইনশাআল্লাহ।”
আগামী প্রজন্মের বৃত্তি প্রত্যাশীদের জন্য তার বার্তাও পরিষ্কার ও বাস্তবভিত্তিক—শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে নিয়মিত অধ্যয়ন এবং নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস রাখা। শর্টকাট নয়, বরং ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমই সফলতার একমাত্র পথ।
নাবিলার সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বিশ্বাস, “পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে সফলতা অবশ্যই আসবে।”
উল্লেখ্য, নাবিলা তাহসিন তোড়া এ বছর আঠারোবাড়ি এমসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টফুল বৃত্তি অর্জন করেছে। সে সরকারি চাকরিজীবী সাইফুল আমিন সরকার (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর)-এর কন্যা এবং তার মাতা তাসলিমা আক্তার শাপলা, একজন সহকারী শিক্ষক (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।
নাবিলার এই সাফল্য শুধু একটি বৃত্তির খবর নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও স্বপ্নে বিশ্বাস রাখার এক জীবন্ত প্রেরণা। নাবিলা তাহসিন তোড়ার সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মেধা জন্মগত হলেও সাফল্য গড়ে ওঠে অভ্যাস, ধৈর্য ও সঠিক দিকনির্দেশনায়।
এই অর্জন ঈশ্বরগঞ্জের শিক্ষা-অগ্রযাত্রায় এক গর্বিত সংযোজন। নাবিলার গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ভয় নয়—পরিশ্রমকে সঙ্গী করতে অনুপ্রাণিত করে। আজ সে একজন কৃতী শিক্ষার্থী; আগামীর দিনে সে হতে পারে মানুষের সেবায় নিয়োজিত একজন আলোকবর্তিকা।
নাবিলার এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়—এটি একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের সূচনা। ঈশ্বরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, তার মেধা, মানবিকতা ও অধ্যবসায় একদিন দেশ ও সমাজের জন্য বয়ে আনবে আরও বড় গৌরব।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com