1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন জুলাই মাস থেকে স্কুল ড্রেস ও পাটের তৈরি ব্যাগ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে: মাহদী আমিন বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ১০০ দিনের কাজের হিসাব দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বললেন বাণিজ্যচুক্তি ‘ঐতিহাসিক’ ঈদগড়রের রুস্তম মেম্বার অপহৃত ৩০ লক্ষটাকা মুক্তিপণ দাবি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই এলাকাবাসী গজারিয়ায় মাদক পরিবহনের সময় হাতেনাতে আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড ধামইরহাটে সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি ব্যাবস্থাপনার লক্ষ নিয়ে আলোচনা সভা তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব: বলি হচ্ছেন স্বর্ণজয়ী লুবাবা রৌমারীতে আইসিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা অর্থহীন: ইরান

ডিজেল সংকটে কুয়াকাটার হোটেলগুলোতে জেনারেটর সেবা ব্যাহত, ভোগান্তিতে পর্যটক

জাহিদুল ইসলাম মামুন
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা-এ ডিজেল সংকটের কারণে আবাসিক হোটেলগুলোর জেনারেটর সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকরা, বাড়ছে অসন্তোষ ও ভোগান্তি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সারজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, কুয়াকাটায় প্রায় চার শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এসে পড়েছে এই পর্যটন কেন্দ্রেও। ডিজেলের অভাবে অনেক হোটেলই এখন জেনারেটর চালাতে পারছে না।

হোটেল আমির হামজার ম্যানেজার রাসেল জানান, “ডিজেল সংগ্রহের জন্য পাম্পে একাধিকবার লোক পাঠানো হলেও আমরা ডিজেল পাচ্ছি না। ফলে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পর্যটকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।”

হোটেল বেস্ট সাউদার্ন এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সাকুর বলেন, “ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের সেবা দিতে না পারলে ভবিষ্যতে বুকিং কমে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওহিদ বলেন, “বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেনারেটরই ছিল ভরসা। কিন্তু তেলের সংকটে সেটিও ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এতে পর্যটকরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি কুয়াকাটা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব টোয়াকের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, “কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের জেনারেটর সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল যানবাহনে জ্বালানি তেলের সংকটে ভুগছে। হোটেল ম্যানেজারদের পরামর্শ দিয়েছি হোটেলের প্যাডে এসিল্যান্ড বরাবার দরখাস্ত পাস করে নিয়ে  গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ করবে । এই শৃঙ্খলা রক্ষা না করতে পারায় অনেক ছোট ছোট হোটেল ডিজেল না পেয়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সর্বোপরি পর্যটকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সহ সকল প্রকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।”

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com