নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পৈত্রিক জমি দখল করে জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডোমার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসাপাড়ার বাসিন্দা সুব্রত দেব রায় (২৩) অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পূর্ব বিরোধের জেরে তার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করার পর মৃত্যুর হুমকি দিয়ে জোর করে জমি রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা করছেন। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা ৩০-৩৫ জন লোক নিয়ে ডোমার সরকারি কলেজ গেটের পাশে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে মৃত্যুভয় দেখিয়ে ডোমার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর মা ভারতী রানী বলেন, “ওই জমির সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর শাহিন জোরপূর্বক আমাদের জমি ভোগদখল করছে। পরবর্তীতে আমরা আদালতে মামলা এবং ডোমার থানায় অভিযোগ দায়ের করি। যার জেরে আমার ছেলের ওপর হামলা করে জোরজবরদস্তি করে কাগজে সই নিয়ে নেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগে ডোমার রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, জোরপূর্বক জমি রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, “আমার বাবা অনেক আগেই ওই জমি কিনেছিলেন। সেদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে দাগ নম্বর ভুল হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করেননি।”
জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ওই দলিলের বিষয়ে অভিযোগ এবং দাগ নম্বর ভুল থাকায় দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি।”
নাম পরিচয় গোপন রেখে এক ব্যক্তি বলেন, শাহীন রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরির সুযোগ নিয়ে বিভিন্নভাবে বহু মানুষের জমি দখল করেছে।
এ বিষয়ে ডোমার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।