দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একটানা তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উপজেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সড়কে যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শীতের তীব্রতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। এ ছাড়া ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু
তীব্র শীতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা তাদের বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। প্রবল শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক কৃষকের বোরো ধানের বীজতলা সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে চারা সংকট ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শীত নিবারণের জন্য গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আঙিনা এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। তবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
এদিকে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তীব্র শীতের কারণে বাজারঘাট ও হাটবাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় লোকসমাগম কম দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শীতার্ত মানুষের মাঝে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, “আজ সকাল ৬টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিন জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।