খুলনার কয়রায় পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনার জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ফজলু গাজী (৬২) নামের এক বৃদ্ধ। প্রথম পক্ষের সন্তানকে বিস্কুট কিনে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদের একপর্যায়ে স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গে (অণ্ডকোষে) সজোরে চাপ দিয়ে হত্যা করেন স্ত্রী খুকুমনি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামের বাসিন্দা ফজলু গাজী তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আংটিহারা গ্রামের খুকুমনিকে বিয়ে করেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ফজলু গাজী তার প্রথম পক্ষের সন্তানকে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে দিলে তা নিয়ে খুকুমনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। এই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খুকুমনি স্বামীর অণ্ডকোষ সজোরে চেপে ধরলে ফজলু গাজী ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যান।
ঘটনার পর খুকুমনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশি তৎপরতায় আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়রা থানা সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর: ০৯,তারিখ: ২৪ মার্চ, ২০২৬,ধারা: দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যাকাণ্ড)থানা: কয়রা থানা, খুলনা কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে তুচ্ছ পারিবারিক কলহ থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, “আমরা অভিযুক্ত খুকুমনিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তার বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় নিয়মিত হত্যা মামলা (মামলা নং-৯) রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় জোড়শিং গ্রামসহ পুরো উপজেলা জুড়ে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন তুচ্ছ কারণে একজন বৃদ্ধ মানুষের এভাবে প্রাণ হারানোকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।