লক্ষ্মীপুরের বটতলি জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল মাদারীস’র মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘মেধার বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন ও ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন।’ কিন্তু এগুলো গঠন করা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি আমরা। যদি কেউ নিজ উদ্যোগে করেও থাকেন তাহলে তাকে মূল্যায়ন করছি না। উল্টো দমিয়ে দিচ্ছি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সাক্সেস কিন্ডারগার্টেন এর শিক্ষার্থীদের ছবক ও বার্ষিক দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি বলেন, বর্তমানে আমাদের সন্তানরা পড়ালেখা করে ‘কিছু আক্ষরিক জ্ঞান ও সার্টিফিকেট অর্জন’ করছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে মেধার বিকাশ হচ্ছে না। আমরা নতুন করে কিছু আবিস্কার করা শিখছি না, শিখছি কিভাবে নকল করা যায়। দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে, তবে বাড়েনি বিজ্ঞানি।
দেশ স্বাধীনতা লাভের পর এদেশে বহু মেধাবী তৈরি হয়েছিলো। যাদের শুধু বাংলাদেশ নয় বিশে^র নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা ছিল। কিন্তু আমরা সেটাকে রাখেনি ‘বিদেশী ষড়যন্ত, নানা অপকৌশল ও অদৃশ্য কোন অপশক্তির’ কারনে দাপন করে দিয়েছি। এই রকম ঘটনা বহু রয়েছে বাংলাদেশে। আমরা ব্যক্তিত্ব গঠন করতে পারিনি, আবার ব্যক্তিত্ব গঠন হলে সেটাকে মূল্যায়নও করতে পারিনি।
মুফতি মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, জাগতিক (দুনিয়াবি) শিক্ষা নিষেধ নয়। যদি নিষেদ হতো, তাহলে কোরআনে শুধু ‘নামাজ, রোজা, হজ¦, যাকাতসহ ইসলামের’ কথা উল্লেখ থাকতো। কিন্তু না, কোরআনে জাগতিক শিক্ষা অর্থ্যাৎ আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের কথাও রয়েছে। ইসলাম এটাকে সমর্থন করে। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই দুনিয়া শেষ নয়। আমাদের আখেরাত রয়েছে। সেটার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য ধর্মীয় শিক্ষাও অর্জন করা জরুরি। তাছাড়া ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য ফরজ। মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর সবকিছু করব, তবে আল্লাহ ও ধর্মকে ভূলে গিয়ে নয়। যদিও বর্তমানে ধর্মকে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত অপচেষ্টা চলছে।
আজ রাজনীতি, রাষ্ট্র, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা থেকে ধর্মকে আলাদা করার গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যদি সবকিছু ধর্ম থেকে আলাদা করা হয়, তাহলে মানুষ আর মানুষ থাকবে না। তারা পশু থেকেও নিকৃষ্ট হয়ে যাবে। আর ধর্মীয় শিক্ষাকে উপেক্ষা করে জাগতির শিক্ষা অর্জন করা হলে, সেটা মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের শিক্ষা হবে না। সেটা পশুত্ব ও হাইওয়ানদের হার মানাবে। তবে আলহামদুলিল্লাহ, দত্তপাড়ার সাক্সেস কিন্ডার গার্ডেন ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে জাগতিক শিক্ষাও দিয়ে যাচ্ছেন। যা এই এলাকার জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ।
শিক্ষার্থীদের ছবক ও বার্ষিক দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.টি.এম কামাল উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সবুজ, দত্তপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম. বেলাল হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. মামুন হোসেন, প্রধান শিক্ষক মো. সুমনসহ আরও অনেকে।