নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় বারবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী পরিবর্তন ঘটছে না। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পুনরায় চালু হয়ে যাচ্ছে এসব কারখানা। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, বরং একটি সুসংগঠিত চক্রের অবৈধ বাণিজ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চুনা কারখানা সরকারি গ্যাস লাইনে অবৈধ সংযোগ নিয়ে নির্বিঘ্নে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কারখানাগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করা যায় না বলে বারবার অভিযান চালিয়েও কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জরিমানা বা শাস্তি কার্যত শূন্যের কোঠায়। এতে করে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের ছত্রছায়া না থাকলে দিনের পর দিন এমন প্রকাশ্য অনিয়ম চলতে পারে না এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।
বিশেষ করে চৈতী গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন খাবার হোটেল এবং ইলিয়াস শাহর পরিচালিত চুনা কারখানায় বাণিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র এই এলাকাতেই প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার গ্যাস অবৈধভাবে জ্বালানো হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে সবকিছু জেনেও কেন নীরব প্রশাসন? কার স্বার্থে এই দায়সারা অভিযান? কেন বারবার একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি?
এখন সময় এসেছে কঠোর পদক্ষেপের। অবিলম্বে এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা, প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট চালিয়ে যাবে আর সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকে যাবে।